ঢাকা চিড়িয়াখানার বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করার কাজ গত ৫ মাসেও শেষ হয়নি। এখনো অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে চিড়িয়াখানার প্রায় পাঁচ একর জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। কিছুদিন আগে এই সরকারি জমি উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করা হলেও রহস্যজনক কারণে তা মাঝপথে থমকে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কয়েকমাস আগে চিড়িয়াখানার জমি উদ্ধারে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নির্দেশে ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা তিন মাস আগে দুই দফায় চিড়িয়াখানা এলাকা পরিদর্শন করে বেহাত হওয়া জমির কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে জমি উদ্ধারের সব তত্পরতা প্রায় বন্ধ বললেই চলে। তবে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এবং গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটির পক্ষ থেকে কাজ এগিয়ে চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চিড়িয়াখানার বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার এবং সীমানা নির্ধারণ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার নির্দেশ দেয়। এজন্য এক মাসের সময়ও বেঁধে দেয়া হয়। এরপর ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিড়িয়াখানার জমির সীমানা নির্ধারণে একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দিনকে কমিটির প্রধান করা হয়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর কমিটির সদস্যরা প্রথম চিড়িয়াখানার চারপাশের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। তারা ওই সময় অবৈধ দখলদারসহ সংশ্লিষ্টদের কাগজপত্র দেখেন এবং আরো কাগজপত্র কমিটিতে জমা দিতে বলেন। এ সময় চিড়িয়াখানা এবং গণপূর্ত কর্তৃপক্ষকে জমির কাগজপত্রসহ কমিটিকে চিঠি দিতে বলা হয়। কিন্তু তিন মাসেও চিড়িয়াখানা ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ কোন কাগজপত্র বা পরবর্তী বৈঠকের সময় জানিয়ে কমিটিকে চিঠি দেয়নি বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দিন। তিনি আরো জানান, চিড়িয়াখানা ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের চিঠির জন্য অপেক্ষা করছে কমিটি। ওই দুই কর্তৃপক্ষের চিঠি এবং সময় পেলেই কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য চিড়িয়াখানার সম্পত্তি বিষয়ক কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস ইত্তেফাককে বলেন, কমিটি তো বিলুপ্ত হয়নি যে, নতুন করে চিঠি দিতে হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এখনো কাজ করছে। সেখানে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ মনোনীত প্রতিনিধি পাঠাবে। তারা যোগাযোগ করেই বাকি কাজ এগিয়ে নেবে।
চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এবিএম শহিদ উল্লাহ জানান, সম্পত্তি উদ্ধারে গঠিত কমিটি কাজ শুরু করলেও বেশি দূর এগোতে পারেনি। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসক পরিবর্তনের পর প্রশাসনকে নতুন করে চিঠি দিতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নতুন করে চিঠি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জানান, কমিটি প্রথম দুইদিন এলাকায় যাওয়ার পর আর সেখানে যায়নি। ওই দুইদিন স্থানীয়রা কিছু কাগজপত্রসহ আপত্তিও জমা দেয় কমিটির কাছে। কমিটির কাজে গতিশীলতা থাকলে এতদিনে কাজ শেষ হতো; কিন্তু তেমন তত্পরতা না থাকায় তা শেষ হয়নি।
তবে কিউরেটর বলেন, সকলের দাবির পক্ষে নথিপত্র ও নকশা জমা নেয়া হবে। এরপর ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে সীমানা চিহ্নিত করা হবে। সীমানা নিশ্চিত করে অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিতদের সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হবে। তারা না সরলে অভিযান চালিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হবে। এরপরই সীমানা পিলার ও প্রাচীর দিয়ে বেদখল জমি চিড়িয়াখানার নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হাই ইত্তেফাককে বলেন, অধিগ্রহণের পর এখনো অনেক জমির নিয়ন্ত্রণ পায়নি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এর নিয়ন্ত্রণ পেতে ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক মাপ-জোক চলছে। একটু সময় লাগলেও শিগগিরই কাজ শেষ করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে জমির নিয়ন্ত্রণ নেবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
