নারী নির্যাতন বন্ধ করো

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২২
জাতিসংঘ যুব ও ছাত্রসংঘ (ইউনিস্যাব), জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথম বারের মতো বাংলাদেশ ইন্টার ন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশনস আয়োজন করেছে। কনফারেন্সের আলোচ্য বিষয় ছিলো’ নারী নির্যাতন বন্ধ করো। ২৮ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তরুণরা যে সব দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সেগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো মালয়েশিয়া, পর্তুগাল, তুর্কী, আলবেনিয়া, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, ইন্ডিয়া, ফ্রান্স, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। ইউএন রীতি অনুসরণে এই সম্মেলন তিনটি কমিটিতে বিভক্ত ছিলো। এগুলো হলো জি২ (অর্থনীতি এবং আর্থিক কমিটি), জি৩ (সামাজিক, মানবিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিষয়ক কমিটি) এবং নিরাপত্তা পরিষদ। সভায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নারী নির্যাতনের বিভিন্ন বিষয়, ধরন এবং এর প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে তুলে ধরেন। থাইল্যান্ড প্রতিনিধি জানান, তার সমাজ উন্নয়ন এবং মানব রক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি পরিসংখ্যান অনুসারে নারীদের প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছে। আর এই বিপজ্জনক অবস্থান থেকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজন এই অঞ্চলের সরকারদের উদ্যোগ। এছাড়া এনজিও, দাতা গোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এর প্রতিকারের জন্য দরকার ধর্মীয় সীমাবধ্যতার উর্ধ্বে উঠা, সামাজিক উদ্যোগ, গণসচেতনতা এবং সকলের ঐক্যবদ্ধতা। চার দিনের এই কনফারেন্সে প্রতিনিধি তরুণরা এই সব বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে, বিতর্ক করে এবং সবশেষে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। যেটা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং নারীদের ঐ সব সমস্যাগুলোর প্রতি সচেতন করবে যেগুলো তারা (নারীরা) সম্মুখীন হয়। আর এই অভিজ্ঞতা তরুণদের ভবিষ্যত্ বিনির্মাণে সহায়তা করবে। যে তরুণরা নেতৃত্ব দেবে তার দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। সমাপনী দিনে তরুণ প্রতিনিধিদের মাঝে এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এবং পাঁচ ঘণ্টার একটি টানা অধিবেশনের মাধ্যমে বিমুন নারী নির্যাতন বন্ধের আইন পাস করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দিপু মনি এমপি, সাইদা মুন্না তাসনিম, (ডিজি,ইউ এন), কাজী আলী রেজা (ইউ এন আই সি) ড.সাইয়েদ শেখ ইমতিয়াজ (চেয়ারম্যান, উইম্যান অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, ঢাবি), নাফিজ ইমতিয়াজ (প্রেসিডেন্ট, ইউনিস্যাব) প্রমুখ। বিমুন ২০১২ একটি তরুণ প্রচেষ্টা যা নির্যাতন বন্ধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী তরুণদের কণ্ঠ ও শক্তিকে পৌঁছে দিতে চায়।