নবজাত সন্তান

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২৪
একটা সময় ছিল, যখন মনে করা হতো, সন্তানের জন্মদানের মতো তার লালন-পালনের বিষয়টিও পুরোপুরি মায়ের উপরেই বর্তায়। কিন্তু আজ আর এ ধারণা কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠিত নয়। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে নারী এর অন্যতম চালকের আসনে নিজের অবস্থানটি গড়ে নিয়েছে। ফলে বহিরাঙ্গনে নারীর পদচারণাও বিরল নয়। এক্ষেত্রে, পুরুষ, তথা পিতা যদি সন্তানের প্রতি মনোযোগী না হন, তাহলে একদিকে নারী যেমন তার কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারবেন না, তেমনি পর্যাপ্ত যত্নের অভাবে সন্তানের বেড়ে ওঠা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রজন্মের ভেতর দিয়ে মানুষ টিকিয়ে রাখে তার অস্তিত্বকে। সন্তানের জন্মদান এই চলমান অস্তিত্বশীলতারই একটি অংশ। বাবা-মায়ের বহু আকাঙ্ক্ষার ধন তাদের সন্তান। কালে কালে পরিবারের গঠনতন্ত্র যেমন পাল্টেছে, তেমনি পাল্টেছে সন্তান লালন-পালন সম্পর্কে ধারণা। এটা ঠিক যে, প্রকৃতিপ্রদত্ত কারণেই সন্তানের প্রতি মায়ের কিছু কর্তব্য একেবারেই স্বতন্ত্র। কিন্তু পিতা যদি সচেতনভাবে তার কর্তব্যগুলো পালন করতে পারেন, তা মায়ের দায়িত্বপালনকে যেমন সহজতর করে তুলবে, তেমনি সামগ্রিকভাবে পরিবারের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মায়ের পাশাপাশি পিতাও সন্তানের বিভিন্ন ধরনের যত্ন নিতে পারেন। তার পরিচর্যায় প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা ছাড়াও বিভিন্ন বস্তুগত যোগানদানের ব্যাপারে তত্পর থাকতে পারেন। যেহেতু নারীকে সংসারের বিবিধ কাজ করতে হয়, তাই পিতা সে সময়টাতে সন্তানের দিকে লক্ষ্য রাখতে পারেন। নারীর বিভিন্ন সাংসারিক কর্তব্যে সহযোগিতা করতে পারেন, যাতে তার উপর অধিক চাপ না পড়ে। যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ই কর্মজীবী হন, তবে দু’জনের বোঝাপড়ার মাধ্যমে সন্তান দেখাশোনার বিষয়টি ভাগাভাগি করে নেয়া উচিত। যেহেতু সন্তান জন্মদানের ভেতর দিয়ে নারী একটি শারীরিক ধকল অতিক্রম করেন, তাই এ সময় তার প্রতিও স্বামীর বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া উচিত। পরিবারের অন্য সদস্যরা যাতে মা ও সন্তানের প্রতি যত্নবান থাকে, সেদিকেও পুরুষটির খেয়াল রাখা উচিত। গৃহের অভ্যন্তরীণ যত্নাদি ছাড়াও চিকিত্সা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে পিতা হিসেবে বিশেষ তত্পরতা থাকা প্রয়োজন। কেবল শারীরিক যত্ন নয়, পিতা এবং স্বামী হিসেবে একজন পুরুষের উচিত তার স্ত্রীকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করা, যাতে সে আদর্শ সন্তানের জননী হয়ে উঠতে পারে। একটি শিশুর সাথে যেমন ব্যক্তি ও পরিবারের অনেক স্নেহ এবং প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকে, তেমনি এই শিশুই জাতির ভবিষ্যত্। তাই, প্রতিটি বাবা-মায়েরই এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত যে, তাদের সম্মিলিত কর্তব্য এবং সিদ্ধান্ত আসলে ভবিষ্যত্ জাতি গঠনেরই হাতিয়ার।