২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৪
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নোত্তরের জন্য অধ্যায়ভিত্তিক বিশ্লেষণমূলক কিছু চিন্তাশীল বিষয় আলোচনা করা হলো। যা থেকে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে অধিকন্তু। এটি পড়লে জ্ঞানমূলক অংশের অনেক সমস্যার সমাধান হবে। অধ্যায় [ ভৌত বিজ্ঞানের বিকাশ] প্রাচীন কাল প্রাচীনকালে ভৌত বিজ্ঞানের বিকাশ: ১। থেলিস ছিলেন প্রাচীন গ্রীক বিজ্ঞানী। ২। থেলিস সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ৩। থেলিস বলেছিলেন, বৃত্তের ব্যাস বৃত্তকে সমদ্বিখণ্ডিত করে। ৪। থেলিস লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। ৫। অ্যারিস্টটলের মৃত্যুর বার বছর পর জন্মগ্রহণ করেন অ্যারিস্টার্কাস। ৬। অ্যারিস্টার্কাস সর্বপ্রথম বলেন— সূর্যই সৌরজগতের কেন্দ্র এবং পৃথিবী ও অন্য গ্রহগুলো তার চারদিকে ঘুরছে। ৭। গ্রিক গণিতবিদ আর্কিমিডিস- (১) লিভারের নীতি আবিষ্কার করেন (২) তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সমর্থ হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন। ৮। গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে এবং তিনি এর নাম দেন পরমাণু বা এটম। [ ভৌত বিজ্ঞানের বিকাশ মুসলিম অবদান] ৯। জাবির ইবনে হাইয়ান ও ইবনেসীনা আলকেমীর উন্নতি সাধন করেন। ১০। ‘আলকেমী’ থেকেই বর্তমান কেমিস্ট্রি নামের উদ্ভব হয়েছে। ১১। ইবনেসীনা একাধারে ছিলেন রসায়নবিদ, চিকিত্সক, দার্শনিক, গণিতজ্ঞ ও জ্যোর্তিবিদ। ১২। আল-খোয়ারেজিমি বীজগণিত ও ত্রিকোনোমিতির ভিত প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল জিবর ওরাল মুকাবিলা’-এর নাম থেকে অ্যালজেবরা শব্দের উত্পত্তি হয়েছে। ১৪। আল ফারাজী ও আল বাওনি গ্রহ- নক্ষত্রের উন্নতি নির্ণয়ের জন্য অ্যাস্ট্রোলাব নামক যন্ত্র আবিষ্কার করেন। ১৫। আল খুজান্দি সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র আবিষ্কার করেন। ১৬। জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইবনে ইউনুস তার পূর্ববর্তী ২০০ বছরের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ রেকর্ড জমা করে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক একটি সারণী তৈরি করেন। এই সারণীর নাম ছিল হাকেমাইট অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল। ১৭। কায়রোর খলিফা আল হাকিম ৯৯৫ সালে House of Science বা বিজ্ঞানাগার নির্মাণ করেন। আল মাসুদী প্রকৃতির ইতিহাস বিষয়ে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই গ্রন্থে উইন্ডমিল বা বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৮। আল মাসুদী ৯৫৭ সালে মারা যান। ১৯। House of Science প্রতিষ্ঠা করেন ইবনে ইউনুস। ২০। উইন্ডমিলের সাহায্যে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হত। [ ভৌত বিজ্ঞানের বিকাশে ভারতীয় উপমহাদেশের অবদান] ২১। মহাবরি “সিদ্ধান্ত” নামক গ্রন্থে ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক কাজ তুলে ধরেন। যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের কাজ এবং শূন্যের ব্যবহার আলোচনা করেন। ২২। আর্যভক্ট দ্বিঘাত সমীকরণ সমাধানের প্রচেষ্টা নেন। ২৩। উপমহাদেশের দার্শনিক কণাদ পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু। ২৪। প্রাচীন ভারতের অন্যতম জ্যোতির্বিদ ভাস্করাচার্য পৃথিবীর ব্যাস নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে সমর্থ হন। ২৫। তার গণনায় পৃথিবীর ব্যাস ছিল ৭১৮২ মাইল। বর্তমানকালের গণনায় যার মান ৭৯২৬ মাইল। ১৬। ভাস্করাচর্য কেএর মান হিসাবে প্রচার করেন। [মধ্যযুগে ভৌত বিজ্ঞানের বিকাশ] ২৭। ত্রয়োদশ শতকের সবচেয়ে পণ্ডিত মানুষ ছিলেন অ্যালবার্টাস ম্যাগনাস। ২৮। তার মতে ‘বিজ্ঞান যা শোনা যায় তাকেই বিশ্বাস করা নয়। বিজ্ঞান হল প্রাকৃতিক ঘটনার যথার্থ কারণের অনুসন্ধান। ২৯। রজার বেকন ছিলেন পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। ৩০। তার মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত। ৩১। লিউনার্দো দা ভিঞ্চি পনের শতকের শেষদিকে পাখির ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল আবিষ্কার করেন। ৩২। তিনি ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী। ৩৩। ড. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা ও তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয়। ৩৪। জার্মান বিজ্ঞানী স্নেল আলোর প্রতিসরণের (দ্বিতীয় সূত্র আবিষ্কার করেন। ৩৫। হাইগেন পেন্ডুলামীয় গতি পর্যালোচনা করেন, ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন। ৩৬। রবার্ট হুক বিক্রিতকরণ বলের ক্রিয়ার স্থিতিস্থাপক বস্তুর ধর্ম অনুসন্ধান করেন। ৩৭। রবার্ট বয়েল বিভিন্ন চাপে গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা করেন। ৩৮। ভনগুয়েরিক বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন। ৩৯। বিজ্ঞানী রোমার বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন। [ কেপলার, গ্যালেলিও ও নিউটন এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উদ্ভব] ৪০। কেপলার কোপারনিকাসের সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের সাধারণ গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সূত্রের সাহায্যে। ৪১। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম সূচনা ঘটে ইটালীর বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর অবদানের ভেতর দিয়ে। ৪২। গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক যে ধারা তা প্রতিষ্ঠা করেন নিউটন। ৪৩। নিউটন আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার তিনটি বিখ্যাত সূত্র, ক্যালকুলাস নামক গণিতের নতুন শাখা, মহাকর্ষ সূত্র। ৪৪। সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞার্স ও এদের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করেন বিজ্ঞানী গ্যালেলিও। ৪৫। নিউটনের অবদান এত গভীর ও সুদূরপ্রসারী যে, সনাতনী পদার্থবিজ্ঞানকে নিউটনীয় পদার্থবিজ্ঞান বলা হয়। ৪৬। পরমাণু ফিশনযোগ্য এ তথ্য দেন ওটোহান ও স্ট্রেসম্যান। ৪৭। অ্যারিস্টটলের কেন? প্রশ্নের পরিবর্তে ‘কেমন করে?’ প্রশ্নটি প্রথম প্রবর্তন করেন গ্যালিলিও। ৪৮। বিংশ শতাব্দিতে আকাশ ভ্রমণ, মহাশূন্য ভ্রমণ, পারমাণবিক শক্তি, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদির বিপুল উন্নতি হয়। পেনিসিলিন ও অ্যান্টিবায়োটিক্স আবিষ্কৃত হয়। ম্যালেরিয়া, পোলিও, যক্ষ্মা প্রভৃতি কয়েকটি মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। ৪৯। বাংলাদেশের কয়েকজন বিজ্ঞানী যারা বিংশ শতাব্দিতে বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান রেখে দুনিয়ায় পরিচিত হয়েছেন— জনদীশ চন্দ্র বসু, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, মেঘনাদ সাহা, কুদরত-ই-খুদা। ৫০। রয়েল একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৬০ সালে।