২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৪
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জন্য দ্বিতীয় অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেয়া হল। ১। নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও ঃ শীতপ্রধান দেশে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে প্রয়োজনীয় গাছ পালা বাঁচিয়ে রাখার জন্য গ্রিন হাউস তৈরি করা হয়ে থাকে। গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ুতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। জনজীবনের ওপরও গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার প্রভাব খুবই মারাত্মক ও বিপদজনক। ক) গ্রিন হাউস কী? ১ খ) গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর। ২ গ) প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানব বসতির ওপর উল্লিখিত প্রতিক্রিয়ার মারাত্মক প্রভাব ব্যাখ্যা কর। ৩ ঘ) প্রতিক্রিয়াটি থেকে রক্ষা পেতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে- মতামত দাও। ৪ উত্তর ঃ ক. গ্রিন হাউস ঃ সূর্যের তাপ কাচের তৈরী ঘরে সহজে প্রবেশ করে, কিন্তু কাচ তাপ কু-পরিবাহী বলে তা কাচ ভেদ করে বাইরে যেতে পারে না। ফলে কাচের ঘরের অভ্যন্তরভাগ দীর্ঘসময় গরম থাকে। শীতপ্রধান দেশে তীব্র ঠান্ডায় গাছপালা মরে যায়। কিন্তু কাচের ঘরের মধ্যে গাছ লাগালে তা সহজে মরেনা। তাই এসব অঞ্চলে কাচের তৈরী এধরনের ঘরকে গ্রিন হাউস বলে। খ. গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া ঃ সূর্যতাপ পৃথিবীপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। পৃথিবী এ তাপকে বিকিরিত করে মহাশূন্যে পাঠাতে চেষ্টা করে। যদি কোন বাধা না থাকতো তবে পৃথিবী সব তাপ বিকিরিত করে মহাশূন্যে পাঠিয়ে দিত। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ন, অধিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং গাছপালা নিধনের ফলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। কাচের তৈরী গ্রিন হাউসে যেমন সূর্যতাপ প্রবেশ করে আর বেরিয়ে যেতে না পারায় ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ঠিক তেমনি বায়ুমন্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ভেতর দিয়ে পৃথিবী হতে বিকিরিত তাপ মহাশূন্যে ফিরে যেতে না পারায় পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বায়ুমন্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড এক্ষেত্রে কাচের ন্যায় তাপ প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করে। পৃথিবীর তাপ বৃদ্ধির এ ঘটনার সাথে গ্রিন হাউসের মিল থাকায় একে গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া বলে। গ. প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানব বসতির ওপর গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার প্রভাব ঃ গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানব বসতির ওপর যেসকল মারাত্মক প্রভাব দেখা দেবে সেগুলো হলো- পৃথিবীর বায়ুমন্ডল উত্তপ্ত হয়ে যাবে, মেরুঅঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করবে, ফলে সমুদ্রের ১. পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে, ২. পৃথিবীর অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে, ৩. কৃষিকাজে স্থায়ী বিপর্যয় দেখা দিবে, ৪. বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল উপকূলবর্তী এলাকা ডুবে যাবে, ৫. বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলো স্থায়ীভাবে পানিতে ডুবে যাবে, ৬. বিপন্ন হবে জনবসতিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জীবন। সুতরাং, গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানব বসতির ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে। ঘ. গ্রিন-হাউস প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে করণীয় পদক্ষেপ ঃ গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে যেসকল পদক্ষেপ নিতে হবে তা নিম্নরূপ- গাছপালা, বনভূমি ইত্যাদি সংরক্ষণ করা এবং প্রতিনিয়ত নতুন বনায়ন সৃষ্টি করা, কৃষিকাজে রাসায়নিক/ কীটনাশক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করা,পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন করা,কার্বন নিঃসরণ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা, সি.এফ.সি. গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করা,নবায়নযোগ্য শক্তির উত্স যেমন- সৌর, পানি, বায়ু ও পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করা,বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রিন হাউসের কূফল সম্পর্কে জানিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। উল্লিখিত পদক্ষেপগুলোর সাহায্যে আমরা গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে পারি।