উন্নয়ন ফোরামের বৈঠকে আগ্রহ নেই দাতাদের

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১৬
শীঘ্রই হচ্ছে না বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক। সরকারের আগ্রহ থাকলেও এ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সাড়া দেয়নি উন্নয়ন সহযোগীরা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা নেয়া হলেও দাতাগোষ্ঠীদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অনেকেই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বড় দাতাদের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ এ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সাড়া দেয়নি। পদ্মা সেতু প্রকল্পের জটিলতাকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে চলে আসার কারনেও দাতাদের আগ্রহ অনেকটা কমে এসেছে। ইআরডি সূত্র জানায়, এবছরের শেষ দিকে বা আগামি বছরের শুরুতে বিডিএফ এর বৈঠকের জন্য ইআরডি প্রাথমিক প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তা আটকে গেছে। অন্যদিকে প্রতিবছর দাতাদের সঙ্গে বিডিএফ বৈঠকের কথা থাকলেও গত বছর সেটি হয়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, পলিসিগত নানা বিষয় এবং বৈদেশিক অর্থছাড় বাড়ানোসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিডিএফ বৈঠক হওয়া জরুরী। এ বিবেচনায় লোকাল কন্সালটেটিভ গ্রুপের (এলসিজি) বৈঠকে দাতাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিডিএফ বৈঠকের প্রস্তাব দেয়া হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর দাতারা একমত হয়ে সম্মতি দিয়েছে বলে ইআরডি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর জানায়নি। অন্যদিকে পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকসহ দাতাদের সঙ্গে সৃষ্ট দূরত্ব কমাতে ব্যাপক তত্পরতার অংশ হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এলসিজি বৈঠক। কিন্তু সেসময়েও বিডিএফ এর বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি কোন দাতা সংস্থাই। এর আগে ২০১১ সালের ২ ও ৩ নভেম্বর বিডিএফ বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও শেষ পর্যন্ত দাতাদের কারণেই এটি বাতিল হয়ে যায়। এ ধরনের বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বা ওই পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ চেয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকসহ অন্য দাতারা মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের অংশ গ্রহণের ইঙ্গিত দিলে এ বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। সূত্র জানায়, এধরনের বৈঠকে দাতা সংস্থাগুলোর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ না থাকলে উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয় বিডিএফ বৈঠক। সেখানে সাতটি খাতে ২৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। বৈঠকে ৩২টি দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের শীর্ষপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলো। সে সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে উপস্থাপনের জন্য ‘বাংলাদেশ অবস্থানপত্র’ নামক একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। দেশের অর্থনীতির সূচক, এ যাবত্কালের অর্জন, আরও অর্জন-সক্ষমতা, আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল ও উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা, জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন, দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনাসহ আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের বিষয়গুলো এ অবস্থানপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। অবস্থানপত্রে বলা হয়েছে, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিবছর দুই থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্য নয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) মাধ্যমে হলেও উন্নয়ন সহযোগীরা তাদের সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, ২০০২ সালে প্যারিসে উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক হয়। সে বছরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় প্রতিবছর ঢাকায় উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে ২০০৩ এবং ২০০৪ সালে ঢাকাতেই বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক হয়েছিল। এর পর আর হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এ ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সরকারের জনভিত্তি না থাকায় উন্নয়ন সহযোগীরা বিডিএফ বৈঠকে বসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। এর পর দীর্ঘ ৫ বছর পর ২০১০ সালে এসে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক।