এই সময়ে ত্বকের যত্ন

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৬

শীতে আপনার সুন্দর ত্বক যখন শুষ্ক ও মলিন হয়ে পড়ে, তখন নিজেকে আর ভালো লাগে না। ঝরঝরে মসৃণ ত্বক যেমন আপনাকে সুন্দর করে তোলে, ঠিক তেমনি আপনার দৈনন্দিন জীবনেও নিয়ে আসে উদ্যম। শীতে ত্বকের যত্ন কীভাবে নেবেন, তার পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন মেরিনা আহমেদ

শীতকালে ত্বক থেকে ময়েশ্চারাইজার কমে যায়। আর তখন ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক। তাই প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্নের। আপনি চাইলে প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনতে পারেন। শীতে বাজারে প্রচুর সবজি পাওয়া যায়। খাওয়াদাওয়ায় প্রোটিনের পাশাপাশি সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার, যেমন :ভাত, রুটি কমিয়ে দিলে দেহ, মন ও ত্বকে সতেজ ভাব চলে আসবে। সকালে একটা রুটির ভাঁজে দিতে পারেন নানা পদের সবজি সিদ্ধ, সাথে শুধু একটু লবণ আর গোল মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নিন। দুপুরে ভাত, রুটির পরিমাণ কমিয়ে টেবিলে নানা পদের সালাদ, শাক, সবজি; সাথে ১ বা ২ টুকরো মাছ বা মাংস খেলে আপনার দেহ-মন সতেজ থাকবে। আর সন্ধ্যায় এই শীতে স্যুপ, দুধ, একটু মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার দিয়ে সেরে ফেলতে পারেন ডিনার। টক জাতীয় ফল যেমন জলপাই, কামরাঙা, জাম্বুরা, কমলা, বরই ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মিটায়, সাথে মুখে এনে দেয় রুচি। দাঁত ও মাড়ির সুস্থতা, ত্বক, চোখ, চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফল ও সবজির তুলনা নেই। এ ছাড়া শীতে ধুলাবালির পরিমাণ একটু বেশি থাকে। কিন্তু রাস্তায় সবাইকে বের হতেই হয়। এই ধুলাবালির হাত থেকে রেহাই পেতে আপনাকে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বাইরে বের হলে চুলে স্কার্ফ পরতে পারেন। চুল প্রতিদিন ভালো কোনো শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে ধুলাবালির হাত থেকে রক্ষা পায়, খুসকিজনিত ঝামেলা আর থাকে না। প্রতিদিন অন্তত ১ থেকে ২ বার ভালো করে চুল আঁচড়ান। ১৫ দিনে একবার চুলে হট অয়েল ম্যাসাজ করতে পারেন। শীতে প্রতিদিন গোসল করলে শরীর-মন ভালো থাকে। গোসলের পরে আর রাতে ঘুমানোর আগে ময়েশ্চার জাতীয় লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। পায়ের গোঁড়ালি ফেটে যাওয়াটা এই শীতে বেশি দেখা দেয়। ঘুমানোর আগে গ্লিসারিনের সাথে পানি বা গোলাপজল মিশিয়ে লাগালে এই ফেটে যাওয়া গোঁড়ালি ফিরে পাবে মসৃণতা। ঘরে বসে সেরে নেওয়া যায় মেনিকিউর ও পেডিকিউর। পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহারে ঠোঁট, হাত, পা, ত্বক মসৃণ থাকে। সেইসাথে আপনাকে সবসময় মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। প্রতিদিন গোসল করুন। যথাসম্ভব হাঁটুন, সকালের মিষ্টি রোদে খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে ঘুরে বেড়ান। এতে আপনার মন, ত্বক, শরীর ঝরঝরে হয়ে উঠবে।

টি প স

l ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম দিনে কম করে হলেও দু বার দিন।

l হালকা গরম পানিতে গোসল ও ত্বকের ধরন অনুযায়ী গ্লিসারিন সাবান ব্যবহার করুন।

l পা ফাটার ঝামেলাও কম নয়। ফাটা ত্বকে ভ্যাসলিন বা গ্লিসারিনের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে হাত ও পায়ের গোঁড়ালিতে মাখুন। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করা উত্তম।

l ঠোঁট নিয়মিত পরিষ্কার করে ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে পারেন। এ সময় ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার না করাই উত্তম। তবে চ্যাপস্টিক ও লিপগ্লস উপকারী।

l অলিভ অয়েল ত্বকের যত্নে খুবই উপকারী। দিনে একবার অন্তত ব্যবহার করুন। বডি লোশনও ব্যবহার করা যেতে পারে।

l গোসলের পানিতে বিভিন্ন ভেষজ দ্রব্য বা সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করতে পারেন।

l সপ্তাহে একবার ক্র্যাকার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা জরুরি।

l মাসে দুইবার মেনিকিউর, পেডিকিউর ও একবার ফেসিয়াল করা প্রয়োজন।

l নিয়মিত সুষম খাদ্য, প্রচুর শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা উত্তম।