বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপে সংলাপ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। একটি নতুন আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চলছে। এ ধরনের বিচার বাংলাদেশে অতীতে কখনো হয়নি। নতুন আইন সম্পর্কে কারো সাথে কথা বলার স্বাধীনতা বিচারপতির আছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। যারা বিচারপতির কথোপকথন হ্যাকিং করেছে তারা তথ্য প্রযুক্তি আইনে দন্ডবিধির ৫৬ ও ৫৭ ধারায় অপরাধ করেছে। তবে আইন প্রতিমন্ত্রীর কথার পরিপ্রেক্ষিতে এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, বিচারপতির স্কাইপে সংলাপ ফাঁস হওয়ায় বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনালেরও ভাব-মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিচারপতির স্কাইপে সংলাপ না হওয়াটা ভালো ছিল। জনস্বার্থেই বিচারপতির স্কাইপে সংলাপটি প্রকাশ করা হয়েছে। আমরাতো কারো মুখ বন্ধ করে রাখতে পারি না। দেশের বিচারকেরা স্কাইপে কথোপকথন কিভাবে দেখবেন, তাই দেখার বিষয়।
তিনি বলেন, বিচার নিয়ে কীসের ষড়যন্ত্র? ১৭ ঘন্টা স্কাইপে সংলাপ, ২৩০টি ই-মেইল করেছেন বিচারপতি নিজামুল হক। এরপরও যদি কেউ বলে ষড়যন্ত্র, তবে মনে করতে হবে সরকারই ষড়যন্ত্র করেছে। সরকার রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে।
শনিবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমীর নতুন ভবনের মিলনায়তনে বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে তারা এসব কথা বলেন। সংলাপে অন্য আলোচকদের মধ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক ড. তুরিন আফরোজ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা আকবর হোসেন।
স্কাইপে কথোপকথন ফাঁসসহ যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বলেন, ষড়যন্ত্র থামাতে পারেননি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের ব্যর্থতা। তবে হ্যাকিংয়ের বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি।
অধ্যাপক মাসুম বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া নতুনভাবে শুরু করা উচিত। আর আইন অনুযায়ী নতুন করে বিচার শুরুর কোন সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তুরিন আফরোজ।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন কতটা যুক্তিযুক্ত, এক দর্শকের এমন প্রশ্নের জবাবে তুরিন আফরোজ বলেন, কোনভাবেই ব্যক্তির গোপনীয়তা হরণ করা যায় না। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ হলে তা প্রকাশ করা যাবে। অধ্যাপক মাসুম বলেন, বিষয়টি জাতীয়। তাই যে কোন সংবাদ মাধ্যম তা প্রকাশের অধিকার রাখে।
খন্দকার মাহবুব বলেন, বিচারপতির সংলাপ যদি জনগুরুত্বপূর্ণ না হয় তবে প্রকাশের ক্ষেত্রে কেন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো? পুরো সংলাপ প্রকাশের সুযোগ দিন। দেশের জনগণ জানুক। না হলে মনের মধ্যে সন্দেহ থাকবে। উত্তরে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংলাপ প্রকাশ করা আমরা বন্ধ করিনি। একটি মামলা করা হয়েছে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে স্কাইপে সংলাপ দোষের কিছু না। প্রতিমন্ত্রীর কথার জের ধরে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আকবর হোসেন তাকে প্রশ্ন করেন, যদি স্কাইপে সংলাপ প্রকাশ বন্ধ করে দেন তবে এ বিষয়ে পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপানো বন্ধ হয়ে যাবে। আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপে সংলাপ এমন কোন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় না।
বিশ্বজিতের হত্যার বিচার হবে কী? দর্শক অরবিন্দ রায়ের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই তাদের বিচার স্বল্প সময়ের মধ্যেই হবে। ইতিমধ্যে হত্যার মদদদাতা শাকিলসহ আরো ৫/৬ জন গ্রেফতার হয়েছে।
