গোদাগাড়ীতে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার মানবেতর জীবন যাপন

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৮
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বঙ্গবন্ধু বীর উত্তমের খেতাব দিলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি মিলেনি। চাকরি হারিয়ে ৩৭ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল। চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা দিনের পর দিন ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধর্ণা দিচ্ছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের মির্জা আব্দুল মালেক ও আমেনা খাতুনের পুত্র মির্জা আব্দুল জলিল ১৯৬৫ সালে তত্কালীন ইপিআর বাহিনীতে যোগদান করেন। ঢাকার পিলখানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৬ নং আসামি হন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার সময় চট্টগ্রামে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করে এবং বাঙালিদের লুট হয়ে যাওয়া স্বর্ণের অলংকারসহ অর্থ-সম্পদ পাঞ্জাবিদের হাত থেকে উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে জমা দেন। ১৯৭২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের হাতে বীর উত্তমের খেতাব তুলে দেন বঙ্গবন্ধু নিজে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ রাইফেলসে্্র ১১ ব্যাটালিয়নের অধীনে গোদাগাড়ী সীমান্তে কর্মরত থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার কিছুদিন পর মির্জা আব্দুল জলিলকে কোন কারণ ছাড়াই বিডিআর বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরি হারিয়ে সুবেদার মির্জা আব্দুল জলিল পরিবার-পরিজন নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার মাদারপুরের রেলওয়ের পরিত্যক্ত জমিতে একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করে। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই তিনি পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে আব্দুল জলিল কী করবে এ দুশ্চিন্তায় সমাজের বিত্তবান লোক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দিনের পর দিন ধর্ণা দিতে থাকে। তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে যে পরিমাণ অর্থ পেত তা দিয়ে ছেলেমেয়েদের একবেলা খাবার জুটত। আর বেশি সময় ধরে এ পরিবারটি অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটিয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে আব্দুল জলিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তার চাকরি হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন আব্দুল জলিলকে চাকরিতে বহাল করার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আব্দুল জলিলকে চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করলে ২০০১ সালে ক্ষমতা বদলে যাওয়ার সাথে-সাথে আবারও আব্দুল জলিলের চাকরি সংক্রান্ত ফাইলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আটকে দেয়।