এই শহরে নতুন সংসার শুরু করার কত যে ঝক্কি, তা নবদম্পতিরাই ভালো বলতে পারবেন। নতুন চাকরির প্রথম বেতনের সব টাকা এক নিমেষে খরচ করে ফেলার অদম্য ইচ্ছা চাপা দিয়ে রেখে বসতে হয় সংসারের পুরো মাসের যাবতীয় খরচের হিসাব নিয়ে। তাই মন চাইলেও বড় বাসা নিয়ে থাকার জো নেই। বাধ্য হয়ে এক ঘরের মাঝেও সুখের নীড় গড়তে হয় তাদের। এই সুখের নীড়টাকে সুন্দর করে সাজানো পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন তাসনিয়া লস্কর
সংসার যত ছোটই হোক, মনের মতো করে সাজানোর স্বপ্ন থাকে সবারই। পাশাপাশি আছে প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা ও স্থান সংকুলান। এসব বিবেচনা করে আপনার ছোট্ট ঘরটি প্রয়োজন ও পছন্দের জিনিস দিয়ে সাজানোর কিছু ‘বুদ্ধি’ সবসময়ই দরকার। যদি কম্পিউটার থাকে, তাহলে টেলিভিশন রাখার জায়গা বাঁচানোর জন্য কম্পিউটারেই টিভি কার্ড সংযুক্ত করা যায়। তেমনি বসার ব্যবস্থা আর টিভি দেখার সমন্বয় একসঙ্গেই করা যেতে পারে। ফার্নিচার প্ল্যান, পকেটের অবস্থা আর প্রয়োজন মিলিয়ে একঘরের সংসারে চাই বহুমাত্রিক আসবাব। পাশাপাশি সাইজের ক্ষেত্রেও আপস করতে হয়।

l ঘরে যদি ডাইনিং টেবিল রাখতে হয়, তাহলে ছোট ফোল্ডিং টেবিল হলেই ভালো। প্রয়োজনে ভাঁজ করেও রাখা যাবে।
l কম্পিউটার থাকলে তার টেবিলটি হবে ছোট, কিন্তু শেলফসহ; যেন প্রয়োজনীয় সিডি-ডিভিডিসহ গৃহসজ্জার জন্য ফটোফ্রেম বা ছোট শোপিস এতে রাখা যায়।
l ফুলদানিতে যথাসম্ভব পাতাবাহার ও তাজা ফুল রাখার চেষ্টা করতে হবে। এতে ঘরে একটা সতেজ ভাব থাকবে।
l বারান্দা থাকলে এর আকার-আয়তন ও গঠন অনুযায়ী ছোট-বড় ফুল এবং পাতাবাহার গাছ রাখা যায়। তবে তাতে যেন বারান্দা গাছে বোঝাই না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
l বারান্দায় বসার জন্য বেত বা প্লাস্টিকের চেয়ার বা মোড়া রাখা যায়। পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে ঘরের ‘মুড’ বুঝে বেত বা স্টিলের দোলনাও ঝোলানো যেতে পারে।
l দৃষ্টিনন্দন ঝোলানো পাটের ব্যাগ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। এতে টুকিটাকি অনেক দরকারি জিনিসও রাখা যায়, যা একইসঙ্গে ঘরের জায়গাও বাঁচায়।
l সোফা অনেক বেশি জায়গা নিয়ে নেয়। এর বদলে ছোট ফোমের কুশন একই সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন ও জায়গা-সাশ্রয়ী। সঙ্গে বিভিন্ন রঙের পিলো ঘরের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করবে।
l আলনার বদলে দেয়াল হ্যাঙ্গার ঝোলানো যায়, যা ঘরের জায়গা বাঁচাবে।
l ড্রেসিং টেবিল রাখতে চাইলে ছোট হওয়াই ভালো। ড্রেসিং টেবিলের তাকে একইসঙ্গে ছোট ছোট শোপিস, ফটোফ্রেম, ফুলদানি রেখে ঘরের জায়গা ও সৌন্দর্য উভয়ই বাড়ানো যায়।
l ঘরের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে এর যেকোনো শেডের পর্দা ব্যবহার করা যায়। তবে কাপড় যেন ভারী না হয় এবং ঘরে সহজে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
তবে ঘর যেভাবেই সাজানো হোক না কেন, সংসার যদি একটি ঘর নিয়েই হয়, তাহলে অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়ে বোঝাই করবেন না। যতটা সম্ভব ফাঁকা ও খোলামেলা রাখলে ঘরের সৌন্দর্য স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেড়ে যাবে।
