মিসরে খসড়া সংবিধানের ওপর গত শনিবার অনুষ্ঠিত প্রথম দফায় ভোটে ইসলামপন্থীরা জয় লাভ করেছে। দেশটির অর্ধেক এলাকায় আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ করা হবে। ক্ষমতাসীন মুসলিম ব্রাদারহুড জানিয়েছে, খসড়া সংবিধানের পক্ষে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিরোধীরাও জানিয়েছে, সংবিধানের পক্ষে কিছু ভোট বেশি পড়েছে। তবে দুই দফা ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন ফলাফল পাওয়া যাবে না। বিরোধীরা অভিযোগ করছে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েও মুসলিম ব্রাদারহুড এই সংবিধানের মাধ্যমে মিসরকে ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এই ফলাফলে অনেকেই খুশী নয়। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী শনিবার অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফা গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এমন সব এলাকায় দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হবে যেখানে ইসলামপন্থীদের সমর্থন বেশি। তার মানে এ খসড়া সংবিধানটি অনুমোদনের সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু গণভোটে জিতলেও মুরসির সরকার স্বস্তি পাবে না। কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে চাইলে তার প্রয়োজন জনগণের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এ খসড়া সংবিধান ইস্যুতে মিসর স্পষ্টতই দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।
পার্লামেন্টে অনুমোদিত খসড়া সংবিধানটি অতিরিক্ত ইসলামপন্থী এবং এতে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি বলে এর বিরোধিতা করে আসছে বিরোধীরা। প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর শনিবার অনুষ্ঠিত গণভোটে কোন উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। গত ২২ নভেম্বর ডিক্রি জারি করে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির পর মিসর জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য ডিক্রি বাতিল করলেও খসড়া সংবিধান প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি।
