মাতৃভূমির টানে ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে অস্ত্রহাতে নিজের জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বীর সৈনিক সিরাজুল ইসলাম(৬৮)। অথচ স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হলেও অকুতোভয় বীর সৈনিক মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। নামমাত্র হাতে পেয়েছেন ৬টি সনদপত্র। আজও পাননি মুক্তিযোদ্ধার পুনঃস্বীকৃতি, অন্তর্ভুক্ত করাতে পারেননি নিজের নাম ও কখনো পাননি সম্মানি ভাতা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের মাধ্যম কাঞ্চনা গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম (৬৮)। দিন-মজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। যেদিন শরীর খারাপ হয়, কাজ করতে পারে না সেদিন বাড়ির সবাই উপোস থাকে। মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম জানান- ১৯৭১ সালের দেশে যখন পাকিস্তানীরা শো্ষণ নির্যাতন শুরু করল দেশ-মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই। ১৯৭১ সালের ১৬ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ভারতের দেমাগ্রী যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৩০ দিনের ট্রেনিং নিয়ে ১নং সেক্টরের অধীন কমান্ডার শহীদ ফয়েজ আহমদের নেতৃত্বে প্রথমে কাপ্তাইয়ের উপরে শো-রুম বাজারে পাক-সেনাদের সাথে যুদ্ধ করি। এরপর যথাক্রমে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালায় যুদ্ধ করি। দীঘিনালার সম্মুখযুদ্ধে পাক সেনাদের গুলিতে আমার বাম পা ঝাঁঝরা হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মৌলানা মোজাফ্ফর আহমদ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতকানিয়া উপজেলা কমান্ডার আবুল কালাম, সাবেক গণপরিষদ সদস্য আবু ছালেহ এম এন এ, সাবেক সংসদ সদস্য (১৯৭৩) ও ডেপুটি কমান্ডার ডাক্তার বি.এম ফয়েজুর রহমান, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবদুল আহাদ চৌধুরী ও প্রতি স্বাক্ষরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান উপদেষ্টা শেখ হাসিনার সনদ থাকার পরও আজও কোনপ্রকার সুযোগ-সুবিধা সরকারি তরফ থেকে পাচ্ছেন না।
