দুলাল চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের পর আতঙ্কে এলাকাবাসী

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৩
ভাণ্ডারিয়ার গৌরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান দুলাল হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে এজাহারভুক্ত এবং ১০/১২ জন অজ্ঞাতকে আসামি করে গত শনিবার রাতে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী নিহতের ভাই বদিউজ্জামান টিপু। মামলায় প্রধান আসামিসহ পাঁচজন একই পরিবারের এবং সম্পর্কে পিতা-পুত্র। আসামিরা হচ্ছেন- শহীদুল, তার পিতা আব্দুস সোবহান, ভাই রফিকুল (মিন্টু), আনোয়ার ও আরিফুল, নিহত সাবেক চেয়ারম্যান তোতা তালুকদারের ছেলে সুজন, নাসির সর্দার ও মোটর সাইকেল চালক সবুজ। নাসির নিহত দুলাল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধের একটি হত্যা মামলার বাদী এবং সবুজ হত্যাকাণ্ডের সময় দুলালকে বহন করছিল। আসামিদের মধ্যে সোবহান ও সবুজকে গ্রেফতারের পর পুলিশ গত শনিবার আদালতে চালান দিয়ে রিমান্ডের আবেদন করেছে। এজাহারে বলা হয়েছে- মামলার অন্যতম আসামি গৌরীপুর গ্রামের আব্দুস সোবহান একটি অবৈধ ইটের ভাটা করায় কিছু দিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল তাকে তিরস্কার করার কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একসময় খুলনার কুখ্যাত এরশাদ সিকদারের দেহরক্ষী সোবহান এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার বড় ছেলে শহীদুলের নেতৃত্বে অন্য ছেলেদের দিয়ে অন্যদের সহযোগিতায় দুলালকে খুন করে। ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিরা ছাড়াও বাইরের অপরিচিত কিছু ভাড়াটে আততায়ী এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। দুলালের ঘনিষ্ঠজনদের অভিমত- খুলনা বা নারায়ণগঞ্জ থেকে একাধিক খুনীকে ভাড়া করে আনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সোবহান তার ছেলেদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে দুলাল চেয়ারম্যানের উপর ক্ষুব্ধ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে শলাপরামর্শ করেছে। হত্যাকাণ্ডের চার দিন আগে ভাণ্ডারিয়া বাজারের জনৈক লতিফ মুন্সীর হোটেলে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি চার জন লোককে নিয়ে একটি বৈঠক করে এবং সেখানে হত্যা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে বাজারে লোকজন বলাবলি করছেন। গত ১৬ বছর ধরে আক্তারুজ্জামান দুলাল গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আসীন থাকাকালে তার কঠোর ও আপোষহীন প্রশাসনিক কাজের কারণে একাধিক মহল তার প্রতি রুষ্ট ছিল। মাদক, ইভটিজিং, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি প্রতিরোধে দুলাল ছিলেন একরোখা। এক সময়ের অপরাধ প্রবণ এলাকা গৌরীপুর কয়েক বছর ধরে শান্তিপ্রিয় অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। দুলালের জানাজায় অংশ নেয়া এলাকার একজন সাংবাদিক গত শনিবার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী নারী-পুরুষ রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন। দুলালকে হত্যার পর এলাকায় আতঙ্ক নেমে এসেছে। আরো জানা যায়, অতীতে তাকে হত্যার জন্য যেমন একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে, তেমনি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাও হয়েছে। গত ইউপি নির্বাচনকালে র্যাবের মামলায় জেলখানায় বন্দী থাকা অবস্থায় বিপুল ভোটে ৪র্থ বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কারামুক্ত হন। দুলাল একাধিকবার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বিএনপির বর্তমান কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আক্তারুজ্জামান দুলাল জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ১৯৯৬ সালে মাটির টানে গ্রামের বাড়ীতে এসে চেয়ারম্যান হন এবং নিজ ইউনিয়নকে সর্বক্ষেত্রে একটি আদর্শ ইউনিয়নে রূপদান করেন। এদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দুলাল হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে ভূমি দখলসহ তাদের কিছু অসত্ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে নিরীহ লোককে মামলায় ফাঁসাতে চাচ্ছে। এ ব্যাপারে ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি যেমন রেহাই পাবে না, তেমনি কোনো নির্দোষ লোককেও কারো কথায় হয়রানি করা হবে না।