রাজধানীর বেইলি রোডে র্যাবের গাড়ির ধাক্কায় শিশু ও নারীসহ ৭ জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর র্যাবের ওই গাড়িটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। তবে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহর চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে এ ঘটনা ঘটে। গাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে রক্তাক্ত হয়ে নারী ও শিশুরা রাস্তায় পড়ে থাকলেও ঘটনাস্থলে থাকা কোন পুলিশ সদস্য তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পাশের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন মরিয়ম বেগম (২৮), স্বামী আবুল কালাম, তাদের তিন বছরের মেয়ে লামিয়া ও মরিয়মের মা ছালিমা বেগম (৪৬), সিএনজি অটোরিকশা চালক মো.সবুজ, রিকশা আরোহী মম আক্তার ও মো. রুবেল। আহতদের মধ্যে তিনজনের কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। তাদের পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অটোরিকশা চালক সবুজ জানান, মহাখালী থেকে যাত্রীদের নিয়ে তিনি গুলিস্তান যাচ্ছিলেন। মগবাজার থেকে বেইলি রোডের মুখে এলে সার্জেন্ট গাড়ি থামান। এরপর প্রচণ্ড গতিতে দুটি র্যাবের গাড়ি পেরিয়ে যায়। মিনিট খানেক পর সার্জেন্ট সিগন্যাল ছাড়লে তিনি গাড়ি নিয়ে এগোতে থাকেন। ঠিক এ সময় প্রচণ্ড গতিতে র্যাবের লাল রঙের আরেকটি গাড়ি তার গাড়িকে চাপা দিয়ে বেইলি রোডের দিকে চলে যায়। জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেসহ যাত্রীদের হাসপাতালে দেখতে পান। আহত যাত্রী আবু কালাম জানান,
তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। দুই বছরের মেয়ে লামিয়াকে নিয়ে তিনি মহাখালীর কলেরা হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গুলিস্তানে যাচ্ছিলেন সোনারগাঁয়ের গাড়ি ধরতে। পথিমধ্যে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী সার্জেন্ট মাহবুব হোসেন জানান, পরপর কয়েকটি র্যাবের গাড়ি চলে যাওয়ার পর হঠাত্ করে দ্রুতগামী লাল রঙের একটি র্যাবের গাড়ি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ওই গাড়িতে পোশাকধারী র্যাবের সদস্যরাও ছিলেন। দুর্ঘটনার পর র্যাবের গাড়িটি থেমেছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, থামেনি।’ প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল খালেকসহ কয়েকজন জানান, মন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার পর সিগন্যালে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যরা অফিসার্স ক্লাবের মোড়ে ফুটপাতে গল্প করছিলেন। সব সিগন্যাল ছাড়া থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
