লাখো মানুষ নিয়ে আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৫
বিজয়ের একচল্লিশ বছর পূর্তির দিন রবিবার বিকালে রাজধানীতে লাখো মানুষ অংশ নেয় আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য ও মনোলোভা বিজয় শোভাযাত্রায়। ঢাকা মহানগরীর ১৫টি নির্বাচনী এলাকা, ৪১টি থানা এবং শতাধিক ওয়ার্ড থেকে অজস্র মিছিলের স্রোত এসে মিশেছিল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে। পুরো রাজধানীই পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটির বর্ণাঢ্য এ বিজয় শোভাযাত্রায় নেমেছিল মানুষের ঢল। একচল্লিশ বছর আগে ৪টা ২২ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে স্থানে পাক হানাদাররা আত্মসমর্পণ করেছিল ঠিক সেই সময় লাখো বাঙালিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বিজয় শোভাযাত্রা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়। বিজয় শোভাযাত্রা উদ্বোধনকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেন, যে জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করতে পারে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে দেবে না। তারা কখনোই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে পিছপা হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় হবে। কোনো শক্তির ক্ষমতা নেই যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারে। সুশৃঙ্খল-দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল এই বিজয় শোভাযাত্রায় জাতীয় নেতাদের কণ্ঠেও ছিল একই শপথ ‘বঙ্গবন্ধু হত্যারীদের বিচার হয়েছে, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার হবে এবং রায় কার্যকর হবে। একাত্তরের ঘাতকদের কোন ক্ষমা নেই।’ বিজয় শোভাযাত্রায় ডামি রাইফেল, কামান, ট্যাঙ্কসহ মুক্তযুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের রণসজ্জা, পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের আত্মসমর্পণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় উল্লাসসহ বিভিন্ন ডামি প্রদর্শনী সাধারণ মানুষের বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করে। শোভাযাত্রায় থাকা বিভিন্ন ট্রাকে লাগানো মাইকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়। সুবিশাল এ বিজয় শোভযাত্রার কারণে রাজধানীতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে খোলা ট্রাকের মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ।