সম্প্র্রতি শেষ হওয়া গার্মেন্টস পণ্য ও এক্সেসরিজের প্রদর্শনী বাটেক্সপো থেকে কাঙ্ক্ষিত সফলতা ঘরে তুলতে পারেন নি আয়োজকরা। বিদেশি ক্রেতার উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক ছিল না। তারা দেশের চলমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পোশাক উত্পাদক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’ও দুষছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে। গতকাল সোমবার বিজিএমইএতে বাটেক্সপো পরবর্তী এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ হতাশার কথা জানান বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।
তিনি বলেন, হানাহানি মারামারি হলে বিদেশি ক্রেতারা নিরুত্সাহিত হন। ক্রেতারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সিদ্ধান্ত নেন। বাটেক্সপো চলাকালে ক্রেতারা এসব পরিস্থিতি দেখেছে। তারা প্যানিক্ড (ভীত) ছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিবদমান সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানান তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে জানান, গতবারের বাটেক্সপো’র তুলনায় এবারের বাটেক্সপোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল। কম ছিল অর্ডারের পরিমাণও। এবারের মেলায় স্টকলট মিলিয়ে স্পট অর্ডারের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। এছাড়া গতবার ১৭৫ জন ক্রেতা ও ৩ হাজার ১৫ জন প্রতিনিধি থাকলেও এবার ক্রেতা ও তাদের প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৯ জন ২ হাজার ৮৪৬ জন।
অবশ্য এবারের বাটেক্সপোতে নতুন বাজারের ক্রেতাদের উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, মেলায় নতুন বাজারের ৯০ জন ক্রেতার উপস্থিতি এবারের বাটেক্সপোতে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। উদ্যোক্তাদের মনেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এসব ক্রেতার বেশিরভাগই চীন ও জাপান থেকে এসেছেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, ও ল্যাটিন আমেরিকা থেকেও ক্রেতারা এসেছেন। তারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এসব ক্রেতারাও দেশের বিবদমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
পোশাক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিদ্যমান অন্যান্য সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়ে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, নীতিগত সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে পোশাক শিল্পখাত থেকে রফতানি আয় ৩ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। এছাড়া চীনও বাংলাদেশের পরবর্তী বড় রফতানি বাজার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রস্তাবিক গার্মেন্টস শিল্প পল্লীর তাগিদ দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তাজরীন গার্মেন্টস এর চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও এখনো আছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করতে গার্মেন্টস পল্লী দরকার। আমরা বাজার মূল্যে এসব জমি কিনে নেব।
