রূপচর্চা

ক্লান্ত ত্বকের যত্ন

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৪
দিনের শুরুটি আমাদের প্রত্যেকেরই ঘটে একটি ফ্রেশ লুক নিয়ে। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে কাজের পরিধিও বাড়ে। সেই সাথে কমে সকালের সেই ফ্রেস লুক। বিকেলের আগেই চেহারায় চলে আসে কিছুটা ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু সবাই চাই দিন শেষেও যেন চেহারায় ফ্রেসনেসটা থাকে। কেননা ত্বকের লাবণ্যই সৌন্দর্যের মূল কেন্দ্র। তাই আমাদের এই আয়োজনে ত্বককে ক্লান্তি থেকে বাঁচাতে কিছু পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন সাইফুল ইসলাম জুয়েল সকালে ঘুম থেকে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অফিসে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ক্যান্টিনে খাওয়াদাওয়া, দৈনন্দিন কাজকম—সবমিলিয়ে সারা দিনের কর্মব্যস্ততায় দিন শেষে আপনি এবং একই সাথে আপনার ত্বক ক্লান্ত। তবে শীতের দিনে আপনার ক্লান্তিটা চোখে না পড়লেও আপনার ত্বকের উপর এর বিশেষ প্রভাব কিন্তু কম নয়। আবার রোজকার রুটিন থেকে আলাদাভাবে একটি দিন কাটাতে গেলে এর প্রভাব আরও বেড়ে যায়। হতে পেরে সেটা বন্ধু বা নিকটাত্মীয় কারও বিয়ে খেতে গিয়ে, শীতের দিনে দূরে কোথাও বেড়াতে গিয়ে, কিংবা অন্য কোনো উত্সবে যোগ দিতে গিয়ে। আর এ সময় তিন ঘণ্টা অন্তর অন্তর সানস্ক্রিন, লোশন কিংবা দিনে অন্ততপক্ষে দুই লিটার জল পানের কথাও হয়তো আপনি ভুলে যান। এতে অবশ্য আপনাকে কোনো দোষ দেওয়া যায় না। বরং এখন কীভাবে এই ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় তারই কয়েকটি বিশেষ টিপস দেওয়া হলো আপনাদেরই জন্যে। পরিশ্রম শেষে কিছুদিন আবারও নিয়ম মেনে ত্বকের যত্ন করুন দেখবেন আপনার ত্বকে ফিরে এসেছে আগের সেই জেল্লা। এই ক্ষতিপূরণের জন্য রূপচর্চার শুরুতেই একটি রিজুভিনেটিং ফেসিয়াল করিয়ে নিন। ফেসিয়াল আপনার ত্বকের উপরে জমে থাকা মৃত কোষগুলো দূর করার পাশাপাশি সান ট্যান কমাতেও সাহায্য করে। আর ফেসিয়াল ম্যাসাজ আপনার ক্লান্ত ত্বককে দেবে নতুন জেল্লা। এ ছাড়া বেশি করে পানি পান করবেন। এই কয়েকদিন যত রিচ ফুড খাওয়া হয়েছে তার কিছুটা প্রভাব আমাদের হজম ক্রিয়ার উপরে পড়েছে। এই ক্ষতি পূরণে পানি খুবই উপকারী। দিনে কম করে হলেও আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করবেন। এ ছাড়াও যাদের ত্বকে কোনো র্যাশ অথবা ব্রণের সমস্যা নেই তারা ফেসিয়াল স্টিমও নিতে পারেন। আপনার ক্লান্ত ত্বককে দ্রুত সজীব করবে। তবে ক্লান্ত ত্বককে সজীব করার সব থেকে কার্যকরী উপায় হলো ঘুম। ঘড়ি ধরে দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। তাতে ত্বক হয়ে উঠবে আরও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও দীপ্তিময়। এ ছাড়া থাকল আরও কিছু চটজলদি সমাধান—  যখনই ক্লান্তি অনুভব করবেন তখনই মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, যার প্রভাব আপনি খুব তাড়াতাড়িই অনুভব করতে পারবেন। তবে ফ্রিজের পানি কখনও ব্যবহার করবেন না।  এক্সারসাইজ বা শরীর চর্চা করুন নিয়ম করে। এতে আপনার সারা শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকবে এবং ত্বকও থাকবে টান টান। ক্লান্তি দূর করার জন্য অন্য একটি উপায় হলো— ম্যাসাজ। এগুলো করতে অসুবিধা হলে বেশি করে হাঁটুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। কেয়ার টিপস  হাইড্রেটিং মাস্ক ব্যবহার করুন। অনেক সময় আর্দ্রতার অভাবে ত্বক খুব মলিন দেখায়। এই ম্লান মুখের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে দিতে এই মাস্ক খুব উপযোগী। যা ড্যামেজ রিপেয়ার করে ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।  স্নানের পরে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। স্নানের পরে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগান।  রোদে বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগান।  রোদ থেকে ফিরে একটা বাটিতে দুধ আর বরফ টুকরা নিন। স্নানের সময় রুমাল ভিজিয়ে কিছুক্ষণ মুখে লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।  শসা স্লাইস করে ৭-১০ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। ত্বক বেশি ক্লান্ত দেখালে মুখে ঘষে নিতে পারেন। ডায়েট টিপস চা, কফি, কোল্ড ড্রিঙ্ক যতটা সম্ভব কম খান। সকালে ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে খেতে পারেন। চা কিংবা কফির বিকল্প হিসেবে হার্বালও টিও চলতে পারে। সকালের নাস্তায় মৌসুমি ফল, টমেটো, শসা ইত্যাদি খান। দুপুরের খাবারে পুঁইশাক বা মাশরুম যোগ করতে পারেন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নিউট্রিয়েন্টের পরিমাণ বেশি থাকায় ক্লান্ত ত্বকের জন্য এগুলো বিশেষ করে উপকারী। চিনির পরিমান বেশি এমন খাবার কম খাবেন। কারণ এতে স্কিন এজিং আর ফোলা ভাব বৃদ্ধি পায়। মডেল ফারিয়া আফরিন ছবি তাহের মানিক