সুন্দর ও আকর্ষণীয় গৃহকোণের অন্যতম সৌন্দর্য গোছানো ছিমছাম রান্নাঘর। কিন্তু অধিকাংশ বাড়িতেই রান্নাঘর গুছিয়ে রাখতে গৃহকর্ত্রীকে হিমশিম খেতে হয়। রান্না করতে আর গোছাতে গৃহিণীর সারা দিন শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় রান্নাঘর নোংরা থাকার জন্য মজাদার শাহী খাবার চেখে দেখতে ইচ্ছে করে না। আবার কখনও অপটু হাতের রান্নাও নান্দনিক হয়ে ওঠে শুধু রন্ধনশালার গুণে। রান্নাঘর সাজিয়ে রাখার জন্য অনেক টাকা খরচ করতে হবে না বরং খরচ করতে হবে শুধু একটু বুদ্ধি। রান্নাঘরের দেয়ালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখুন। উনুনের পেছনের দেয়ালে তেল-মসলার ছিটা লেগে রং নষ্ট হয়ে যায়। ওই অংশটি প্রতিদিন মুছে ফেললে অন্তত কিছুটা পরিষ্কার রাখা যাবে। যদি দেয়ালে প্লাস্টিক পেইন্ট বা টাইলস ফিটিংস হয় সে ক্ষেত্রে সাবান পানি কিংবা টাইলস ক্লিনার দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন। একটু খরচ করে চিমনি লাগিয়ে ফেললে রান্নাঘরের দেয়াল পরিষ্কার রাখার নিশ্চয়তা শতভাগ। রান্নার পর আপনার চুলা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। রান্নার তৈজসপত্র রাখার জন্য ক্যাবিনেট বানিয়ে নিন অথবা প্লাস্টিকের বড় শেলফ কিনে নিতে পারেন। এতে বড় হাঁড়ি-পাতিল ও কড়াই রাখুন। মাটি বা কাঠের তৈরি ভারি মগে রাখুন হাতা, খুন্তি, ছুরি ও চাকু। মসলাপাতি রাখার জন্য প্লাস্টিক কিংবা কাচের জার রাখুন। জারগুলো একরকম হলে দেখতে ভালো লাগবে। জারের গায়ে মসলার নাম লিখে রাখলে কাজের সময় খুঁজে পেতে সুবিধা হবে। রান্নাঘরের যে স্থানে সুইচ বোর্ড সেখানে একটি শেলফে গুছিয়ে রাখুন ব্লেন্ডার, টোস্টার, ওভেন, মিক্সচার মেশিন জাতীয় ইলেক্ট্রনিক্স জিনিসগুলো। যে কাউন্টারে কাজ করবেন সেখানে হাতের কাছে রাখুন রুটি বানানোর পিঁড়ি, সবজি কাটার চপিং বোর্ড। খাবার প্লেট, গ্লাস, ডিস, বাটি, চামচ রাখার জন্য নির্দিষ্ট শেলফ বা তাক রাখুন। রান্নাঘরে হালকা আলো নয় বরং উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করলে দেখতে সুন্দর লাগবে। রান্নাঘরে জানালা না থাকলে ফ্যানের ব্যবস্থা করুন।
কিছু সহজ টিপস
রান্নাঘরে কেবিনেট থাকলে বেশ সুবিধা হয়। কেবিনেটে সবকিছু গুছিয়ে রাখলে বাইরে কোনো জিনিস ছড়ানো থাকবে না। আর যাদের কেবিনেট নেই তারা সিলিং তাকে জিনিসপত্র সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতে পারেন।
থালা-বাসন ধোয়ার পর যেখানে সেখানে ছড়িয়ে না রেখে সিংকের ট্রেতে পানি ঝড়িয়ে গুছিয়ে রাখতে পারেন। অথবা থালা-বাসন রাখার র্যাক ব্যবহার করতে পারেন। তবে রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মনে হবে।
প্রতিদিন রান্না করতে যে জিনিস ব্যবহার হবে তা হাতের কাছে রাখুন এবং রান্না শেষে পরিষ্কার করে গুছিয়ে যথাস্থানে রাখুন।
কিছু জিনিস যেমন প্রেসার কুকার, রাইসকুকার, ব্লেন্ডার, জুসার, বেলুন পিঁড়ি ব্যবহারের পর ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে যথাস্থানে তুলে রাখুন। এতে রান্নাঘর অগোছানো থাকবে না বরং সুন্দর দেখাবে।
রান্নাঘরে অবশ্যই ঢাকনা দেওয়া নোংরা ফেলার একটি বালতি ব্যবহার করবেন।
রান্নাঘরে একটি অতি প্রয়োজনীয় হচ্ছে সিংক। এখন প্রায় রান্নাঘরে সিংক ব্যবহার হয়ে থাকে। সিংক থাকলে ধোয়ার অনেক সুবিধা হয়। সিংকের পাশে থালা-বাসন ধোয়ার ভিমবার, বা ভিম লিকুইড গুছিয়ে রাখতে পারেন। সিংকে থালা-বাসন ধোয়ার পর সিংক ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। সিংক পরিষ্কার করার জন্য বাজারে বিভিন্ন লিকুইড ক্লিনার পাওয়া যায়।
রান্নাঘরে মেঝে কখনই অপরিষ্কার রাখবেন না। পানি, তরকারির ঝোল ইত্যাদি পড়ে নোংরা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে ফেলুন। তার জন্য হাতের কাছে পরিষ্কার কাপড় রাখতে পারেন।
অনেক সময় কাপের মধ্যে চা-কফির দাগ পড়ে তাই চিনা মাটির কাপ-প্লেটের কড়া দাগ পরিষ্কারের জন্য ভিনিগারে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে প্যাডে সামান্য লবণ দিয়ে ঘষলে দাগ ওঠে যাবে।
অনেক সময় দেখা যায় গ্যাস ওভেনের চারপাশে চলকে পড়ে শক্ত হয়ে থাকে। একে পরিষ্কার করতে এক চা চামচ লবণ ও গরম পানি দিয়ে ভালো করে ঘষে নিলে ওই দাগ ও তেলতেলে ভাব দূর হয়ে যায়।
তেল চর্বির বাসনপত্র হলে অবশ্যই সাবানের সঙ্গে গরম পানি ব্যবহার করবেন। এতে থালা-বাসনের তেল চর্বির ভাব দূর হয়ে যাবে।
রান্নাঘর সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন এবং সবকিছু যথাস্থানে রাখবেন। কারণ এর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর পরিবারের সুস্বাস্থ্য অনেকটা নির্ভরশীল।
প্রতিদিন রান্নাঘরের এককোণে সাজিয়ে রাখুন একগুচ্ছ ফুল। তেল, মসলা ঝাঁঝে নয় বরং সুগন্ধি ফুলের সুরভীতে মোহনীয় হয়ে উঠবে আপনার রান্নাঘর। কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না এমন স্থানে সাজিয়ে রাখুন কিছু শোপিস। বিভিন্ন কালার ফুল ক্যান্ডেলও রাখতে পারেন। রান্নাঘরের মূল দেয়ালটিতে টাঙ্গিয়ে দিন কোনো আর্টপিস বা দৃষ্টিনন্দন ও মানানসই দৃশ্যচিত্র। ঘড়ি, ক্যালেন্ডারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু নয় বরং পরিচয় দিন সুন্দর রুচির। পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য ও শিল্পবোধের প্রয়োগ করুন রান্নাঘরের সজ্জায় তাহলেই আপনার রান্নাঘরটিও হয়ে উঠবে দৃষ্টিনন্দন।
