হুডিতে মানাবে শীত

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৭
শার্ট-প্যান্টের সঙ্গে সঙ্গে মাথায় ঘোমটা তুলে শুধু আধখানা মুখ বের করে শীত-কুয়াশার ভেতর দিয়ে হনহনিয়ে চলে। আর কেউ কেউ চাদর-মাফলার ঠিক করতে করতেই হাঁটায় আর ভাব-সাব আসে না। মাফলারওয়ালাদের চোখে ‘ঘোমটা’ বটে। কিন্তু হনহনিয়ে চলা ফ্যাশনেবল প্রজন্মের কাছে এর নাম ‘হুড’। শুধু কি দেশে? শীতপ্রধান অন্যান্য দেশেও জনপ্রিয় পোশাক হুডি। হুডির খবর জানিয়েছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র হিমহিম ভাব নিয়ে শীত চলেই এসেছে। ঋতুর পালাবদলে পোশাকের রঙ-ঢঙে আসে পরিবর্তন। হালফ্যাশনের যুগে হুডি এখন দারুণ জনপ্রিয়। কানঢাকা টুপি দিয়ে শীতকে মানানো যায়; তবে সেকেলে ভাবটা থেকেই যায় জ্যাকেট বা সোয়েটারে। শুধু হুডটা টেনে মাথা ঢেকে নিলে ফ্যাশনেবল লাগে আর বাড়তি উষ্ণতা তো রয়েছেই। একটা সময় হুডি ব্যবহার হতো শুধু জ্যাকেটেই। জিপারওয়ালা বা জিপার ছাড়া বড় পকেটসহ হুড থাকত পোশাকে। মাথা ঢাকা আর জরুরি জিনিস বহন দুটি প্রয়োজনই মিটত। তবে এখন বিভিন্নভাবে হুডি পাওয়া যায়। এখন শুধু জ্যাকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধতা নেই হুডি। সোয়েটার, শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট নানা ধরনের পোশাকে হুড ব্যবহার করা হচ্ছে। নানা কাটের টপ তৈরি হচ্ছে মেয়েদের জন্য আর সঙ্গে হুড তো রয়েছেই। এক্সটেসি, ওয়েস্টেকস, ক্যাটস আই, ট্রেন্ডসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানে নানা ডিজাইনের হুডসহ পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। এক্সটেসির অ্যাসিস্ট্যান্ট অপারেশন ম্যানেজার ম্যাক জানালেন, এবার হুডি জ্যাকেটের সঙ্গে মেলানো মাফলার পাওয়া যাচ্ছে। নানা রঙা এসব মাফলার বেশ জনপ্রিয় হয়েছে তরুণদের মধ্যে। চামড়ার তৈরি হুডসহ জ্যাকেটেও আছে। তবে এর দাম তুলনামূলক বেশি। মেয়েদের জন্য আছে নানা রঙের স্ট্রাইপ দেওয়া হুডি টপ। খাটো হাতার এসব টপের সঙ্গে বিপরীত রঙা টি-শার্ট পরা যেতে পারে। ডেনিম প্যান্টের সঙ্গেই হুডি পরা হচ্ছে বেশি। মেয়েরা স্কার্টের সঙ্গেও হুডি পরতে পারেন। এসব ব্র্যান্ডের হুডি পাওয়া যাবে ১২০০ থেকে ১৭০০ টাকায়। বুয়েটের শিক্ষার্থী তৌশিকের কাছে মনে হয়, বর্তমানে দেশীয় অনেক ফ্যাশন হাউস রয়েছে, যারা বিভিন্ন দেশি ঢঙের পোশাকে হুড ব্যবহার করছে। বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবিতে হুড ব্যবহার করছে তারা। পাট, সুতি কাপড়ের ফতুয়ায় হুড ব্যবহার করা হচ্ছে। আজকাল তরুণ-তরুণীরা এ পোশাকটিকে ফ্যাশন স্টেটমেন্টে পরিণত করেছে। ছোট শিশুদের পোশাকেও হুড জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ন্যারো প্যান্টের সঙ্গে হুডি বেশ মানানসই। ছেলেমেয়ে উভয়ই এ পোশাকে শীতের দিনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। হুডি পোশাকে বাড়তি টুপি বা মাফলার ব্যবহারে কোনো ঝামেলা নেই। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুল বলেন, ‘সাদামাটা কাটের সোয়েটার পরতে ভালো লাগে না। আবার পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাক পরতেও আমি খুব পছন্দ করি। হুড দেওয়া সোয়েটার বা জ্যাকেট তাই ভালো লাগে। শীতে তো পরা হয়ই, গরমেও খাটো হাতার হুডি টপ পরতে ভালো লাগে। ডেনিম প্যান্টের সঙ্গে হুডি টপ দারুণ ফ্যাশনেবল বলে মনে হয়।’ সোয়েটার জিপার এবং ড্র-স্ট্রিং দেওয়া হুডি সোয়েটারগুলো শীতে বেশ আরামদায়ক। কানটুপি, মাফলার এবং হাইনেক সোয়েটার আলাদা পরার চেয়ে অনেকেই বেছে নেন হুডি সোয়েটার। সোয়েটারের হুডের সঙ্গে উষ্ণতার জন্য কখনো জুড়ে দেওয়া হয় ফার এবং আলাদা লাইনিং। দেশীয় ব্র্যান্ড স্টোরগুলোতে বিভিন্ন মাপের এবং ধরনের হুডি সোয়েটার মিলবে। দাম ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা। শার্ট সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় হুডি সোয়েট শার্ট। পৃথিবীর বিখ্যাত বাস্কেটবল হুডি, সকার হুডি এবং টিম সাপোর্টিং হুডিগুলোর বড় একটা অংশ এ দেশে তৈরি হলেও দেশে এগুলো কমই পাবেন। অবশ্য খুঁজলেই শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যাওয়া হুডিগুলো পেয়ে যাবেন বিভিন্ন স্ট্রিট শপে। দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকা। শুধু পরতে আরামের জন্যই নয়, বরং হুডি তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন ট্রেন্ডিং হাইভ। হাজার হোক, হুডি জেনারেশন বলে কথা। মডেল তারিন ছবি তাহের মানিক