ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত তিন ধাপে ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩০২ আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। আজ সোমবার চতুর্থ ধাপে ভোটগ্রহণ হবে। এবারের নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের নির্বাচন হিসেবে। অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসের অতীতের স্বর্ণযুগকে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ হিসেবেও। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করেছিল। বিজেপি টানা দ্বিতীয়বারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রচারণা চালালেও তাদেরকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলছে বিভিন্ন এলাকার শক্তিশালী কিছু আঞ্চলিক দল এবং ভগ্নদশা থেকে পুনরুজ্জীবিত হওয়া প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তবে নির্বাচন-পূর্ব জরিপগুলো বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবারের নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেতে পারে। আবার এটাও বলা হচ্ছে, হয়তো সামান্য ব্যবধানে পিছিয়েও পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে কিছু আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করতে পারে তারা। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ১৪২ থেকে ১৫০-এর মতো আসন পেতে পারে বলে বিভিন্ন জরিপের ফল বলছে।
এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অন্য যেকোনো দলের নেতার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন। গত সপ্তাহে সিভোটার-আইএএনসের এক জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীর চেয়ে ৩০ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী পদে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী কে? এই প্রশ্নে প্রায় ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা নরেন্দ্র মোদিকে বেছে নিয়েছেন। রাহুল গান্ধীকে প্রায় ২২ শতাংশ উত্তরদাতার পছন্দ।
গত নির্বাচনে কংগ্রেস ধরাশায়ী হয়েছিল। মাত্র ৪৪টি আসনে জয় পেয়েছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে দলটি শক্তি সঞ্চয় করে এবার ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছে। রাহুল গান্ধী এবার মোদিকে হটাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। যেখানে বলা হয়েছে, টানা চতুর্থবার এমপি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। এবার দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে তিনি এখন বড় দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পরিপক্ব। একসময় বিজেপির নেতারা তাকে ‘পাপ্পু’ বলে তামাশা করতো। কিন্তু সেই অবস্থা এখন নেই। গত ডিসেম্বরে রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও মধ্য প্রদেশের মতো বিজেপির ঘাঁটিতে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। রাহুল তার সক্ষমতা অনেকখানি প্রমাণ করেছেন। এখন প্রতিদিন গড়ে পাঁচটি সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তিনি। তার ভাষণ দেওয়ার দক্ষতাও বেড়েছে। ভারতের দরিদ্রতম ৫ কোটি পরিবারকে বছরে ৭২ হাজার রূপি করে ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কংগ্রেস। ‘ন্যায়’ নামের এই প্রতিশ্রুতির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন রাহুল।
তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসডিএসের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার বিবিসিকে বলেন, আমি এখনই কংগ্রেসের পক্ষে বাজি লাগছি না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কংগ্রেসের ভবিষ্যত্ নেই। এক দুইটি নির্বাচনে পরাজয় মানে শেষ হওয়া নয়। ১৯৮৪ সালে বিজেপি মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল। কিন্তু তারাই আবার সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অনেক কংগ্রেস নেতার মতেও, ২০১৯ তাদের জন্য বাঁচা মরার লড়াই নয়, বরং ২০২৪ সালের নির্বাচনই তাদের বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্য। বিবিসির এই প্রতিবেদক ২০০৪ সালের নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করেছিলেন, হেরে গেলে কি করবেন? রাহুল জবাবে বলেছিলেন, একটি লড়াইয়ে হার মানেই সবকিছু ছেড়ে, বন্ধ করে যাওয়া নয়। আমিও সবকিছু গুটিয়ে চলে যাবো না।
