মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার প্রাচীনতম খ্যাতনামা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শিক্ষা-দীক্ষার মান উন্নয়ন ও নিয়ম-নীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখায় প্রতিষ্ঠানটির গৌরব দিন দিন ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করছে। বিদ্যালয়টির বহু ছাত্র-ছাত্রী যোগ্যতা গুণে দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। ১৯০১ সালের ১ জানুয়ারি নাকোল বাজার সংলগ্ন হানু নদীর তীরে মাইনর স্কুল হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। এতদাঞ্চলের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বাবু রাইচরণ সাহা’র পৃষ্ঠপোষকতায় এবং এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় গড়ে ওঠে এ বিদ্যালয়টি।
১৯১১ সালে শ্রীপুরে প্রথম স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ পায়। যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাত্সরিক গেজেট মিনিট বহিতে লিপিবদ্ধ আছে vol-for the year 1913, part-11, page-508, sl.no.-994, official letter no.-2760.। স্বীকৃতি পাওয়ার পর সর্বপ্রথম যে সকল ছাত্র মেট্রিক পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তারা হলেন- শ্রীস চন্দ্র মল্লিক, পূর্ণ চন্দ্র সিংহ, তারাপদ সান্যাল, আব্দুল জব্বার, আকমল হোসেন মিয়া, মুন্সী আকমল হোসেন, এবাদত হোসেন ও আব্দুর রহমান প্রমুখ। অগ্রযাত্রার সাফল্যে বর্তমান পর্যন্ত পাসের হার ৮০% থেকে ১০০% এর মধ্যে ওঠানামা করে থাকে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করে বিশেষ রেকর্ড সৃষ্টি ও অবদান রেখেছেন তারা হলেন- বাবু অমল কৃষ্ণ মজুমদার ও বাবু ভবেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। স্বাধীনতার পর প্রধান শিক্ষক হিসেবে একটানা ৩০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন মরহুম বদরুজ্জামান মিয়া ।
১৯৯১ সাল ও ১৯৯৭ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে মাগুরা জেলা ও ২০০০ সালে উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতপ্রাপ্ত হয়। ২০০০ সালের শেষের দিকে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সরোজ কুমার শিকদার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি অবসরে যাওয়ার পর ২০০৭ সালে সিনিয়র শিক্ষক খোন্দকার শফিকুল আজম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ ৪ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর থেকে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলম দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে সব বিভাগ মিলে প্রায় এক হাজার ছাত্র-ছাত্রী লেখা পড়া করছে। বিদ্যালয়টিতে পুরাতন টিন শেড বিল্ডিংটি সংস্কার করার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরমের দিনে পুরাতন টিন শেড রুমে বসে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। তাছাড়া শিক্ষাদানের পাশাপাশি চিত্তবিনোদন ও আলোচনার জন্য তেমন কোন পৃথক অডিটরিয়াম নেই। ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলম জানান, উপজেলার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হিসেবে সুখ্যাতি ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। পাঠদানের পাশাপাশি অন্য শিক্ষকরাও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
