যে বাঁশির আওয়াজ শুনে মানুষের সকালের ঘুম ভাঙ্গত এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের কল-কাকলিতে মুখরিত ছিল টাঙ্গাইল কটন মিলস্ এলাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরি হারিয়ে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছে। ২ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর সঙ্গে যোগ হয়েছে তাদের আরও ৩০ হাজার পরিবার-পরিজন। প্রায় ১০ বছর ধরে মিলের ২টি ইউনিট বন্ধ থাকায় শতকোটি টাকার মূল্যবান মেশিনপত্র মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে সরকারের কয়েকশ’ কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত হতে চলেছে। ইতিমধ্যে সরকারের বিপুল পরিমার সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের গোড়াই এলাকায় দেখা যায় টাঙ্গাইল কটন মিলসটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই নামক স্থানে ১৯৬১ সালে প্রায় ২৮ একর জমির উপর টাঙ্গাইল কটন মিলস পশ্চিম পাকিস্তান নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন নিশাত গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এর রক্ষণা-বেক্ষণ করতো। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে এটিকে জাতীয়করণ করেন। উপমহাদেশের মধ্যে টাঙ্গাইল কটন মিলের ৮০, ৬০, ৪০ ও ৩২ কাউন্টের উন্নতমানের সুতা তৈরি হতো এখানে।
আমলাদের গভীর ষড়যন্ত্র, সিবিএ নেতাদের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং সুতার বাজার দিন দিন খারাপ হওয়ার অজুহাতে ১৯৯২ সালে সরকার টাঙ্গাইল কটন মিলের ২নং ইউনিট বন্ধ করে দেন। ছাঁটাই করে দেন অর্ধেক শ্রমিক-কর্মচারী। এরপর ২০০২ সালের আগষ্ট মাসে ১নং ইউনিট বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। চরম বিপাকে পড়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা।
২ হাজার শ্রমিকের আন্দোলনের মুখে সরকার তাদের ন্যায্য পাওনা এককালীন কিছু ভাতার ব্যবস্থা করে দেন। ২০০৩ সালের শেষদিকে ব্যক্তিমালিকানায় একটি কোম্পানী মিলটি সুতা উত্পাদন শুরুর লক্ষ্যে কিছু শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ দেন। কিছুদিন চালু থাকার পর বিশ্ববাজারে সুতার দাম পড়ে যাওয়ায় ২০০৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে বৃহত্ এই সুতা উত্পাদনের মিলটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মিলটি চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন। টাঙ্গাইল কটন মিলের চাকরি হারানো শ্রমিক বাবুল সিকদার, আব্দুর রশিদ, আব্দুর রহমান সুবেদারসহ অনেকে।
