পাবনার ফরিদপুরে চার চরমপন্থি নিহতের নেপথ্যে

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১১
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বৃ-কালিয়ানী গ্রামে চাঁদা আনতে গিয়ে ৩০ নভেম্বর গ্রামবাসীর পিটুনিতে চারজন নিহত হয়। পুলিশ ও গ্রামবাসী নিহতদের চরমপন্থি হিসেবে দাবি করেছেন। কেন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো তা অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার ৩ দিন আগে অর্থাত্ ২৭ নভেম্বর সকালে উপজেলার ব্যবসা প্রসিদ্ধ ডেমরা বাজারে ঘি ও দুধ ব্যবসায়ী মঙ্গলা ঘোষের দোকানে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সাঁথিয়া উপজেলার ডাকবাড়িয়া গ্রামের সন্ত্রাসী খলিলুর রহমান ওরফে বোমা খলিল গং। চাঁদা না দিলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বোমা মেরে উড়িয়ে দেবার হুমকি দেয়া হয়। অস্ত্র উঁচিয়ে মারপিট করা হয় তাকে। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে তারা। এসব ঘটনার পরপরই ঐদিন বিকেলে বাজার সমিতির লোকজন, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় পুলিশ এক সভায় মিলিত হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে কোন উপায়ে চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা হবে। ডেমরা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে হাজী জয়েন উল্লাহ হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত সভায় ডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান মলয় কুমার কুণ্ডু, ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আ. হামিদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। এলাকাবাসীর সভা করা ও ঐক্যবদ্ধতার কারণে চাঁদাবাজরা আর মঙ্গলা ঘোষের দোকানে চাঁদা নিতে আসেনি। ৩০ নভেম্বর সকালে চাঁদাবাজ গং বৃ-কালিয়ানী গ্রামে আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। খবর পেয়ে গ্রামবাসী তাদের ঘিরে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে ৭/৮ জনের চাঁদাবাজ দলটি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী ধাওয়া করে গ্রামের মাঠের বিভিন্ন স্থানে ৪ জনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের পর গ্রাম পুলিশ শাহীন হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৩/১৪শ’ গ্রামবাসীর নামে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের পর পাবনার পুলিশ সুপারসহ এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা গ্রামবাসীকে নির্ভয়ে বসবাসের আশ্বাস দিলেও গ্রামবাসী আতংকে রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বোমা খলিলও রয়েছে। তার সাঙ্গপাঙ্গরা ডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান মলয় কুণ্ডুসহ অন্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মলয় কুণ্ডু এ ব্যাপারে থানায় একটি জিডি করেছেন।