আসানসোলে গ্ল্যামার জগতের লড়াই

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৫

কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন সেন। মায়ের মতো অতটা জনপ্রিয় না হলেও অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ তিনিও। অন্যদিকে সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়। বাংলা ও হিন্দি গানের জনপ্রিয় এই শিল্পী সুরের ছন্দে বিমোহিত করেছেন শ্রোতাদের। এবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল আসন থেকে লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন বিনোদন জগতের দুই তারকা। মুনমুন সেন আগেও এমপি হয়েছিলেন। আর বাবুল সুপ্রিয় বিজেপির এমপি তথা ভারতের ভারী শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বিনোদন জগতের দুই পরিচিত মুখের এই লড়াইকে দেখা হচ্ছে গ্লামারের লড়াই হিসাবেও।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদি জোয়ারে সবাইকে চমকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আসনসোল লোকসভা আসনে প্রথমবারের মতো জিতেছিলেন বাবুল। দীর্ঘদিন ধরে সিপিএমের দখলে থাকা আসনটিতে ৭০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন তিনি। এক্ষেত্রে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী। তবে দুই বছরের মাথায় ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরিস্থিতি অনেকটা বদলে যায়। কংগ্রেস এবং সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট একজোট হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এরপরও আসানসোল লোকসভা আসনের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভার আসনের মধ্যে ৫টিতে জয়লাভ করে তৃণমূল। আর দুটিতে জিতেছিল সিপিএম। তৃণমূল কংগ্রেস বাম-কংগ্রেস জোটের              চেয়ে এগিয়ে ছিল ১ লাখ ১২ হাজারেরও বেশি ভোটে। ২ বছর আগে জেতা আসনে বিজেপির অবস্থান তৃতীয়। তারা ভোট পেয়েছিল তৃণমূলের প্রায় অর্ধেক। এবার সিপিএম আর কংগ্রেস আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। লড়াইটা তাই এবার চতুর্মুখী হচ্ছে।

তৃণমূল মুনমুন সেনের প্রচারে মা সুচিত্রা সেনই প্রাধান্য পাচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছেন দুই মেয়ে রিয়া আর রাইমা। এখানকার প্রবীণ ভোটাররা মজে রয়েছেন সুচিত্রা সেনে। তারা মুনমুনের মধ্যে মহানায়িকার ছায়া দেখছেন। আর রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। তাঁর উন্নয়ন কর্মের খতিয়ান তুলে ধরে ভোট চাইছেন মুনমুন। তিনি এর আগে বাঁকুড়ার এমপি ছিলেন। এবার আসানসোলে তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন মমতা।

অন্যদিকে বাবুল সুপ্রিয়র ভরসা খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিজে এসে বাবুলের জন্য ভোট চেয়েছেন। প্রচারে বাবুল বলছেন, বিধানসভা আর লোকসভা নির্বাচন আলাদা প্রেক্ষিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের সুফল ভারতবাসী দেখছেন। তাই এবারো তিনিই জিতবেন।

টানা ২৫ বছর সিপিএমের দখলে ছিল আসানসোল। ২০১৪ সালে বাবুল সব হিসাব উল্টে দিয়ে দুইবারের এমপি বংশগোপাল চৌধুরিকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে দেন। তবে এবার ভালো করার আশা করছে সিপিএম। এখানে তাদের প্রার্থী গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি। তবে মূল লড়াই তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে। দুই মহারথীর গ্ল্যামারের লড়াইয়ে এখানে জিতবেন কে? মুনমুন না বাবুল? আজ সোমবার চতুর্থ ধাপের ভোটে সেটা নির্ধারিত হবে। আর ফল জানা যাবে ২৩ মে ভোট গণনার দিনই।