নির্বাচনের উত্সবে ভাসছে রংপুর সেনা মোতায়েন করছে না ইসি

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৮
প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন উত্সবের আমেজ বিরাজ করছে রংপুরে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীরা ছুটে চলেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ছড়াচ্ছেন। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে অফিস-আদালত ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো। আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে সকল ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এদিকে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের দিন হরতালসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল ইসির এক আলোচনা সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী বৃহস্পতিবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের নবম এই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, বৃহস্পতিবার হরতাল থাকলেও নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ এর আগেও হরতালের সময়ে বিভিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া রংপুরে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোন পরিকল্পনা নেই। তবে কোন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জানা গেছে, নবগঠিত রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমান ভোটার সংখ্যা মোট ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৭শ’ ৪২ জন। ভোট কেন্দে র সংখ্যা ১শ’ ৭৮টি এবং ভোট কক্ষ ১ হাজার ৭০টি। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই টাকার ছড়াছড়ি ও ব্যাপক মাইকিংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। তারপরেও নির্বাচনী আমেজে ভাসছে গোটা নগরী। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের দায়ে ২ মেয়র ও ৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১০৪টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রংপুর সিটি করপোরেশনের ১৭৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। সেই লক্ষ্যে প্রিজাইডিং ও সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন শুধু ভোট গ্রহণের জন্য অপেক্ষা। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ গুলোর মধ্যে বিদ্যুিবহীন অবস্থায় রয়েছে ৭০টি কেন্দ । ওই কেন্দ গুলোতে মোমবাতি সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ৪ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও পরীক্ষামূলকভাবে ৪টি কেন্দে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন- ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ১১নং ওয়ার্ডের পূর্ব রাজেন্দ পুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দে ২৩টি ইভিএম ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে। মেয়র পদে ১২ ও কাউন্সিলর পদে ৪৮১ প্রার্থী রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২ জন প্রার্থী ও ৩৩টি ওয়ার্ডের সাধারণ এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৪৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩শ’ ২৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯১ জন। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মেয়র প্রার্থীরা হলেন-আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ ীয় নেতা ও সাবেক এমপি শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু (মোটর সাইকেল), জাতীয় পার্টির (এ) বহিষ্কৃত নেতা ও রংপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (হাঁস), রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জাপার (এ) বহিষ্কৃত নেতা একেএম আব্দুর রউফ মানিক (চশমা), বিএনপি নেতা ও গণমঞ্চের প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা (আনারস), মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি (দোয়াত কলম), সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফিরোজ কবীর চৌধুরী গুঞ্জন (কাপ-পিরিচ), নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাজিরুল ইসলাম লিটন (টেলিভিশন), নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে ইঞ্জিনিয়ার ফারুখ আজীজ শাহীন (ঘোড়া), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা (পানি জাহাজ), বাসদ জেলা সমন্বয়কারী কমরেড আব্দুল কুদ্দুস (তালা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী হায়দার সরকার দুলু (টেবিল) ও মেহেদী হাসান বনি (প্রজাপতি)। চলতি বছরের ২৮ জুন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দেশের ৯ম সিটি করপোরেশন হিসেবে রংপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়। ২০৩ বর্গকিলোমিটারের নবগঠিত রংপুর সিটিকে গত ২৬ আগস্ট ৩৩টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে ১১টি। গত ৫ নভেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।