হার্টের ‘নিজস্ব পেসমেকার’!

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৯
হূদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে যান্ত্রিক পেসমেকারের বদলে একধরনের জৈবিক পেসমেকার উদ্ভাবন এবং তা প্রাণীর হূদযন্ত্রে প্রয়োগে সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিবিসির খবরে বলা হয়, মানব হূিপন্ডের কোটি কোটি কোষের মধ্যে মাত্র হাজার দশেক কোষ স্পন্দন সৃষ্টির জন্য দায়ী। আর এগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় বৈদ্যুতিক সংকেতের সাহায্যে। বয়স বৃদ্ধি বা অসুখ বিসুখের কারণে হূদস্পন্দনের গতি কখনো বেড়ে যায়, কখনে কমে যায়। কখনো বা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়ে আমাদের মৃত্যু ডেকে আনে। একেই আমরা বলি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। এতদিন পেসমেকার নামে ব্যাটারি চালিত একটা যন্ত্র বুকের ভেতর বসিয়ে এই সমস্যা সমাধানের কাজ চলছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সিডার্স-সিনাই হার্ট ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক যান্ত্রিক পেসমেকারের বদলে হূিপন্ডেরই কিছু কোষের চরিত্র পাল্টে জৈবিক পেসমেকারের মত কাজে লাগানোর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। টিবিএক্স ১৮ নামে পরিচিত একধরনের জিন ভ্রূণ অবস্থায় হূদযন্ত্রের কিছু কোষকে হূদস্পন্দন সৃষ্টির উপযোগী করে তোলে। বিজ্ঞানীরা এক প্রকার ভাইরাসের সাহায্যে হূিপন্ডের স্বাভাবিক কোষ সংক্রামিত করে তাকে হূদস্পন্দন সৃষ্টির উপযোগী কোষে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছেন। নতুন এই পদ্ধতি সাতটি শুকরের ওপর প্রয়োগ করে সেগুলোর হূিপন্ডের ‘নিজস্ব পেসমেকার’ সৃষ্টি করেছেন। এই গবেষক দলের সদস্য ড. হি চেওল চো বলেন, এই পদ্ধতি মানব দেহেও সমান কার্যকর হবে বলে তাদের ধারণা। তবে মানব দেহে প্রয়োগের আগে এ নিয়ে আরো পরীক্ষা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যান্ত্রিক পেসমেকারের সমস্যা হল, এর ব্যাটারির নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে তাই ব্যাটারি পাল্টানোর দরকার হয়ে পড়ে। তাছাড়া এটা স্থানচ্যুত হওয়া, যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটে। কিন্তু তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে এসব সমস্যা থাকবে না।