দুই শিশুকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, চুল কর্তন

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৮

ওসমানীনগরে পিতৃহীন কন্যা শিশু ধর্ষণের মামলা তুলে না নেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের দুই মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু কন্যাকে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন ও একজনের চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের খাসিয়াপাড়া খাগদিওর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এদিকে শিশুর চুল কাটার অভিযোগে আক্কাছ আলী নামের একজনকে আটক করে গতকাল রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়।

জানা যায়,  গত ২৩ মার্চ খাসিয়াপাড়া খাগদিওর গ্রামের পিতৃহীন হতদরিদ্র পরিবারের ৬ বছরের কন্যা শিশুকে ধর্ষণ করে কটাই নামের এক লম্পট। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটির পরিবার যাতে আইনের আশ্রয় নিতে না পারে সেজন্য নানা ফন্দি-ফিকির করে প্রভাবশালী মহল। ঘটনার তিনদিন পর শিশুটির মা বাদী হয়ে কটাই মিয়াকে অভিযুক্ত করে ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত শনিবার বিকালে ধর্ষণের শিকার কন্যা শিশুটির বোন ও তার চাচাতো বোন আম কুড়াতে গেলে ধর্ষক কটাই মিয়ার সহযোগী আক্কাছ মিয়া ও তার স্বজনরা মিলে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে দুই শিশুকে ধরে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে। এসময় নির্যাতনকারীরা কাঁচি দিয়ে একজনের চুল কেটে দেয়। খবর পেয়ে দুই শিশুর পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা সেখানে গেলে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা নির্যাতনকারীদের কবল থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়। ঘটনাটি পুলিশকে অবগত করা হলে রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতা আক্কাছ মিয়াকে আটক করে। এঘটনায় আক্কাছ মিয়াসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আল মামুন বলেন, মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে দুই শিশুকে নির্যাতন করে একজনের চুল কর্তন করা হয়েছে। এঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং মূল হোতা আক্কাছ মিয়াকে আটক করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার দুই শিশুর জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য সোমবার (আজ) আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।