ডিসেম্বর মাস। বিজয়ের মাস। চারদিকে উত্সবের আমেজ। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলছে অবিরাম। পুরো দেশ আলোয় আলোকিত। সবার মুখে হাসি। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসেই এসেছিল আমাদের বিজয়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। এ যেন এক শক্তিশালী আবেগের নাম। এ বিজয়ের মাসে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা কি? যাদের যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। যারা যুদ্ধের সময় খুবই ছোট ছিল। কিংবা যুদ্ধ-পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে। তারা কীভাবে জেনেছে এবং ধারণ করেছে বিজয়ের এ চেতনা?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আবদুল খালেক ইমন বলেন, ‘স্বাধীনতার চার দশক পেরিয়ে গেছে। কিন্তু স্বপ্নের সেই সোনার বাংলাদেশ আমরা এখনো গড়তে পারিনি। আমরা একটা সোনার বাংলাদেশ চাই। তবে তার জন্য দরকার সবকিছুতেই একটা পরিবর্তন।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্র এসএম নুরুল মোসাব্বির মনি বলেন, ‘সোনার বাংলা আর কতদূর আমরা জানি না। তবে আমরা একটা সোনার দেশ চাই। সেজন্য আমাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ আমাদের পূর্বসূরিরা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন পালা আমাদের। আমরা একটা ইতিবাচক পরিবর্তন চাই।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রাকিবা সুলতানা রত্না বলেন, ‘এ বিজয়ের মাসে প্রত্যাশা- আমাদের এ বিজয় থাকবে অটুট। আমরা আমাদের শত্রুদের চিনতে আর ভুল করব না। বাংলার মাটি হবে শত্রুমুক্ত। হবে কলঙ্কমুক্ত।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোবাশ্বেরা জাহান বলেন, ‘অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের ফলে এ বিজয় অর্জিত হয়েছে। যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের নাম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু এর বাইরেও অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশু রয়েছে যাদের নাম আমরা জানি না। তাদের কথা আলোচনা হয় না। অন্যরা মনে না করলেও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা এ দিনে তাদের স্মরণ করে নিশ্চয়ই অশ্রুপাত করেন। বিজয়ের এ মাসে আমি চেনা-জানাদের সাথে সাথে সেসব অজানা স্বজনদেরও স্মরণ করছি।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিকভাবে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহিষ্ণুতা নেই একেবারেই। স্বাধীনতাকে সফল করতে হলে সবাইকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর ভেদাভেদ ভুলে সোনার বাংলা গড়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করা উচিত। দেশের শান্তি ও মঙ্গলের বিপক্ষে যারা কাজ করেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, তাদের কোনো দলীয় নেতাকর্মী হিসেবে না দেখে দুষ্কৃতকারী হিসেবে দেখা উচিত। তাদের বিচার করা উচিত।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিজোয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘বিরাট প্রত্যাশা নিয়ে এবং রক্ত দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। মানুষ মুক্তি পায়নি বঞ্চনা থেকে। এ সংকট থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন ভুখণ্ড এবং পতাকা পেয়েছি। এটা অবশ্যই একটা বড় পাওনা। তবে স্বাধীনতার অর্থ নিছক একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম নয়। ভূখণ্ডে বসবাসরত সকল মানুষের সার্বিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং সুখ নিশ্চিত না করতে পারলে সে স্বাধীনতা অর্থহীন।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জনের পর অনেক বাধা-বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা সামনে এগিয়েছি। সুস্থ রাজনৈতিক চিন্তা হচ্ছে জনগণের উন্নয়নের জন্য। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জগুলোকে আমরা সুস্থ চিন্তাধারার মাধ্যমেই প্রকাশ করতে পারবো। আশা করি এতে আমরা অবশ্যই সফল হবো।’
