হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ভালো থেকো বন্ধু

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২৭
যেকোনো বিদায়ের সুরই করুণ। বিদায় মানেই দুঃখের স্মৃতি নয়, সেটা হতে পারে আনন্দের আর পূর্ণতার এক মহা আয়োজন। আর সে রকম রঙে রঙিন বিদায়ের র্যাগ ডে ’১২ আয়োজন করল দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ’০৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ব্যাচের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, এগ্রিকালচার অনুষদ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, ফিশারিজ অনুষদ, ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থীদের নানা আয়োজন, উত্তেজনা, প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসেব মেলানোর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মেতে উঠেছিল র্যাগ ডে’র মহা আনন্দে। শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অর্জনের পাশাপাশি র্যাগ ডে অন্যতম। র্যাগ ডে হল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনের শেষ দিন। আর এই দিনটিকে শিক্ষার্থীরা স্মরণীয় করে রাখতে চায় আজীবন। দিনব্যাপী ছিল নানা রঙের নানা মাত্রিক সব আয়োজন। প্রত্যেকবারের ন্যায় এবারো ’০৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে। র্যাগ ডে-১২ উপলক্ষে সকালেই শিক্ষার্থীদের সাদা রঙের একটি করে টি-শার্ট দেয়া হয়েছিল। র্যাগ ডের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. রুহুল আমিন সকালে র্যাগ ডে-১২’র শুভ উদ্বোধন করেন। শুরুতেই ছিল বর্ণিল শোভাযাত্রা। যেখানে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছিল। র্যাগ ডে-১২ উপলক্ষে সদ্য স্নাতক পরীক্ষা সমাপ্ত শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছিল আনন্দের জোয়ারে। শিক্ষার্থীরা রঙ মেখে একাকার আর হৈ-হুল্লোড় এবং রঙ মাখামাখি নিয়ে ব্যস্ত। তাদের দেখে চেনার উপায় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপনী দিনটাকে মনের মণিকোঠায় ধরে রাখতে তারা ঢাকঢোল পিটিয়ে দিনটিকে রঙ মেখে এবং একে অন্যকে রঙ মাখিয়ে ভূত বানিয়ে শিক্ষা জীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিল। শেষ দেখা বলে কথা। ছেলে কি মেয়ে কেউ বাদ পড়েনি সহপাঠীর কাছে রঙ মাখতে। ক্যাম্পাসকে তারা সাজিয়েছিল নানা রঙের বর্ণিল সব সাজে। এমনকি জুনিয়ররাও বড় ভাই-বোনদের র্যাগ ডে’কে স্মরণীয় করে রাখতে তাদের সাথে নিজেদের মাতিয়ে তুলেছিলো রঙের খেলায়। আজ আমরা চলে যাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে; কিন্তু এ স্মৃতি কোনোদিনও ভুলবার নয়। সবাই যে যার সেক্টরে কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের অর্জিত জ্ঞানটাকে বিলিয়ে দিয়ে মানুষের সেবা করে যাব অকাতরে। দেশের বরেণ্য শিল্পীরা গান পরিবেশন করে র্যাগ ডে’কে আরো বর্ণিল করে তোলে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন আর কবে হবে দেখা, এ রকম সুযোগ পাব কিনা। কিছুদিন পরেই আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু সব সময়ই মনে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের জীবন, স্মৃতি আর আবেগময়ী ক্ষণগুলো, হাসি-ঠাট্টাগুলো। ক্ষণগুলো কোনোদিনও ভুলবার নয়। তাড়া করে যাবে আজীবন।