আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে অর্থমন্ত্রী

প্রবাসীদের যথার্থ সম্মান ও সেবা দিতে হবে

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:১১
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে যারা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন একটি জায়গা করতে হবে যেখানে গিয়ে তারা নালিশ জানাতে পারে, চোখের পানি ফেলতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে আশি লাখ বাংলাদেশি বিদেশে আছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিতে তারাই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এজন্য তাদের যথার্থ সম্মান ও সেবা দিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সময় অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল তলাবিহীন ঝুড়ি। তখন আমাদের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উত্স ছিল পাট। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তখনই আমি বলেছিলাম আমাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো মানবসম্পদ। এখন মানবসম্পদ রফতানিই আমাদের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উেস পরিণত হয়েছে’। আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রতিবছর বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ১০ লাখ শ্রমিক রফতানি হবে। এ খাতের আয়ও দ্বিগুণ হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মাধ্যমে শুধু প্রবাসীদের রেমিটেন্সই নয় প্রবাসীদের কল্যাণে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের সেবা করা। বিশেষ করে গরীব মানুষের সেবা করা। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ উন্নত জীবন-যাপন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনে। অনুষ্ঠানে অভিবাসীদের কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য তিউনিশিয়ার দুই নাগরিককে সম্মাননা দেয়া হয়। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী অভিবাসন মেলার উদ্বোধন করেন।