রোজ গার্ডেন

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৯

আমাদের মতো অনেকেই এসেছেন রোজ গার্ডেন ঘুরে দেখতে। কিন্তু বিধিবাম। এখানে ঢুকতে হলে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। এখন কী করা? নানা ঝক্কি সামলে শেষ পর্যন্ত ভিতরে ঢোকা হলো। প্রথমেই চোখে পড়ল দুধ-সাদা ভবন। তবে গলিপথের চেহার দেখে কেন জানি মনে হচ্ছিল, এটা আদিপথ নয়। অর্থাত্ ঋকেশ দাস এ পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন না। আমার এই ধারণা পরে সত্য হয়েছে। রোজ গার্ডেনের পুরোনো একটা ছবি দেখে নিশ্চিত হয়েছি, প্যালেসের সামনে এখন যে পুকুরটা আছে ওটা আগে ছিল না। যেখানটায় এখন পুকুর, সেখান দিয়েই ছিল মূল প্রবেশ পথ। পুকুরের ওপারে প্রাচীন প্রবেশ পথের পিলারদুটো এখনো আছে। ওই পথ দিয়েই ঘোড়ার গাড়িতে চেপে তত্কালীন বিত্তশালীরা লাল গোলাপ বাগানের ভিতর দিয়ে নর্তকীদের নাচ দেখতে প্রাসাদে প্রবেশ করতেন। অসাধারণ কারুকার্যময় ভবন। ভবনের সামনেই আছে মার্বেলের তৈরি কয়েকটি সুদৃশ্য মূর্তি। দোতলা ভবনের প্রতিটি স্থানে কারুকার্যের ছোঁয়া। দুটো জানলা খোলা পর্দা টাঙানো। ভিতরে মানুষের বাস, আমরা সামনে গিয়ে সিঁড়ির ওপরে বসে ছবি তুললাম। ভবনের ভিতরে প্রবেশ নিষেধ। তাই আর ভিতরে ঢুকতে পারলাম না। ভবনটির মোট আয়তন সাত হাজার বর্গফুট। উচ্চতায় ৪৫ ফুট। ছয়টি সুদৃঢ় থামের উপর এই প্রাসাদটি স্থাপিত। প্রতিটি থামে লতাপাতার কারুকাজ করা। প্রাসাদটির স্থাপত্যে করিনথিয়-গ্রিক শৈলী অনুসরণ করা হয়েছে। ভবনের ঠিক বিপরীত পাশেই আছে শান বাঁধানো পুকুর। আমরা পুকুর পাড়ে বসলাম গিয়ে। কল্পনার ক্যানভাসে আমার সামনে ভেসে ওঠে দুধ-সাদা প্রাসাদের সামনে অসংখ্য রক্ত-লাল গোলাপ। অতীতই হয়তো একমাত্র বাস্তব চিত্র যাকে দেখতে হয় কল্পনার চোখে। এবং সেই ১৯৩৯ সাল! সেটাও কি কম ঐশ্বর্যময়! তখন কি কেউ জানত, দাপুটে মুসলিম লীগকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ওই সফেদ বাড়িতে যে দলটির জন্ম হলো সেটিই এক সময় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ড সৃষ্টি করবে! কেউ ভাবুক আর নাই ভাবুক, ঋকেশ দাসের রোজ গার্ডেন প্যালেস আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের জীবন্ত অংশ।

কী ভা বে  যা বে ন

ছুটির দিন ছাড়া সবদিনই রোজ গার্ডেনে যাওয়া যায়। তবে মূল ভবনে ঢোকার ক্ষেত্রে পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন হয়। ঢাকার গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী দিয়ে রিকশায় চড়ে টিকাটুলির কেএম দাস লেনে অবস্থিত রোজ গার্ডেনে যেতে পারেন। তবে রিকশাওয়ালারা হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি বললেই চিনবে। বেড়ানোর ফাঁকে খেতে পারেন পুরান ঢাকার আল রাজ্জাক, হাজীর বিরিয়ানি, কাশ্মীর কাচ্চি, বিউটি বোর্ডিং কিংবা সুলতানের চা। আর মতিঝিল থেকে রিকশা ভাড়া মাত্র ৩০ টাকা।