প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর পাশাপাশি খুন-ধর্ষণ-আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাসহ গুরুতর অপরাধগুলোর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল রবিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, এসব অপরাধের বিচার যেন খুব দ্রুত হয় এবং অপরাধীরা কঠোর সাজা পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে বছরের পর বছর কারাগারে আটকে রয়েছেন, কেন আটকে রয়েছে তারা নিজেরাও জানেন না। কিভাবে আইনি সহায়তা পাবেন তাও তাদের অজানা। সেই বিষয়টা দেখার জন্য আমরা ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। মামলা দীর্ঘসূত্রতা ও জট কমাতে অধঃস্তন আদালতের জন্য বিচারক নিয়োগ, নতুন নতুন আদালত, ট্রাইব্যুন্যাল স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ, উচ্চতর প্রশিক্ষণসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায়। বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বিচার বিভাগের সর্বত্র পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগ এবং ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি।
এসিডদগ্ধ নারী-পুরুষ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা, প্রতিবন্ধী, পাচারকৃত নারী বা শিশু, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, নৃ-গোষ্ঠীসহ আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার পেতে অক্ষম নাগরিকদের সম্পূর্ণ সরকারি অর্থ ব্যয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনগত সহায়তা কমিটি গঠিত হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টেও অসহায়-দুঃস্থ বিচারপ্রার্থীগণ সরকারি আইনি সেবা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারপতি এবং বিচারকদের উদ্দেশে করে বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে আমাদের সামনে বিচারপতি বা অন্য সকলে রয়েছেন তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো কেবল শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে মা-মেয়েকে বঞ্চিত করে বাবার সম্পদ যে তাঁদের কাছ কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর কোন সুরাহা করা যায় কি না- অনুগ্রহ করে একটু দেখবেন।
