প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা!

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৫
‘বাস্তুহারা লীগের পৃষ্ঠপোষক হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কক্সবাজারে বাস্তুহারা লীগের কোন কার্যালয় না থাকায় তারই (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে আমরা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি। আবেদনে এথিন রাখাইন এমপি, আবদুর রহমান বদি এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একে আহমদ হোছাইনসহ অনেকেই সুপারিশ করেছেন। পরে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান গত ২২ নভেম্বর সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে জমির দখল আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন।’ বরাদ্দ না পেয়েই কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী জেলে পার্ক ময়দানের জমি দখল সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ জেলা শাখার সভাপতি ডা. কেএম হাফিজুর রহমান (হাতুড়ে চিকিত্সক) সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করে সরকারি দলের দুই সহযোগী সংগঠন দাবিদার আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ ও হোটেল শ্রমিক লীগ কক্সবাজার শহরের জেলে পার্ক ময়দানের একাংশ দখল করে নেয়। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে তারা সেখানে ঘর তুলে চারদিকে বেড়াও দিয়েছে। বেদখল হওয়া ওই ২০ শতক জমির মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি ও কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, জেলে পার্ক ময়দান কক্সবাজারের একমাত্র বৃহত্ মাঠ। এই উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ নিয়ে অনেক ঐতিহ্য জড়িত আছে। তাই এই মাঠ রক্ষায় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত। কক্সবাজার সোসাইটির আহবায়ক কমরেড গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রশাসন অবৈধ দখলদারদের অবিলম্বে উচ্ছেদ না করলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রসঙ্গত, কক্সবাজার বিমানবন্দরের দক্ষিণ পাশে প্রায় ২ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এই জেলে পার্ক ময়দান। ময়দানটি বড় জনসভা, জানাজা ও খেলাধুলার জন্য ব্যবহূত হয়। ময়দানের পশ্চিম পাশে রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বাসভবন, দক্ষিণ পাশে সেনাবাহিনীর ১৭ প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের কার্যালয়, বিমান বাহিনীর স্টাফ কোয়ার্টার্স ও অফিসার্স ক্লাব এবং পূর্বে রয়েছে পুরাতন ঝিনুক মার্কেট। আর ঝিনুক মার্কেটের পশ্চিম পাশ সংলগ্ন রাস্তার পাশেই প্রায় ২০ শতক জমি দখল করে সেখানে ওই দুই সংগঠনের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কক্সবাজারে এখন কোন খেলার মাঠ, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ আর অবশিষ্ট নেই। একে একে বিভিন্ন নামে দখল করে নেয়া হচ্ছে এই ময়দান। বিগত বিএনপি সরকারের আমলেও বিভিন্ন সংগঠনের নামে দখল-বাণিজ্য চলেছে। বর্তমানেও সরকারি দলের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করে জমি দখলের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। তারা আরো জানান, আওয়ামী বাস্তুহারা লীগের সভাপতি কক্সবাজারের লোক নন। মূলত তিনি বহিরাগত। একইভাবে হোটেল শ্রমিক লীগের অধিকাংশ নেতাও বহিরাগত বলে তারা জানান। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নামে জেলে পার্ক ময়দান দখল সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট একে আহমদ হোছাইন বলেন, সুপারিশের জন্য অনেকেই আসেন, তাই সুপারিশ দিতে হয়। তবে জেলে পার্ক দখলের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর হোসেন জানান, জেলে পার্কের মাঠ কাউকে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। দখলের বিষয়েও তিনি জানেন না। জেলে পার্ক ময়দান কক্সবাজারের একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ এবং এটি জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দখল উচ্ছেদে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করলে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। তিনি যত্রতত্র বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙ্গানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন।