আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, যে যত কথাই বলুক-রাজনীতি এখন আসলে রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। যার কারণে সমাজে আজ প্রচণ্ড অবক্ষয়। চোখের সামনে যা দেখছি, এ বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু চাননি, আমরাও এই বাংলাদেশ চাইনি। বঙ্গবন্ধু একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। একাত্তরের মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। মহান বিজয়ের ৪১ বছর উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন জেপি চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আমাদের (সরকার) মধ্য থেকে বিভিন্ন কথা বলা হচ্ছে, যা বলা ঠিক নয়। বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, আদালতই জানে কখন রায় বা বিচার হবে। তবে আমাদের মধ্যে দৃঢ়বিশ্বাস জন্মেছে যে, যথাসময়েই এই বিচার কাজ সম্পন্ন হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কপাল থেকে কলঙ্কের তিলক মুছে যাবে। তিনি বলেন, একাত্তরে এদেশে যাদের রাজনীতি করার অধিকার ছিল না, আজ বিজয়ের মাসে সেই জামায়াত-শিবিরের আস্ফাালন দেখছি। তাদের ইন্ধন দিচ্ছে একটি রাজনৈতিক দল, যাদের জন্ম সেনা ছাউনিতে। একাত্তরের মত বাংলাদেশের মানুষ এবারের ১৪ ও ১৬ ডিসেম্বর ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলেছেন, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। একাত্তরে যেভাবে আমরা ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলে এদেশকে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করেছিলাম, এবারো সেরকম ঐক্য গড়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ বানচালের ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করতে হবে।
’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক তোফায়েল আহমেদ বলেন, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয়েছিল। অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য আজ হারিয়ে গেছে। স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধকে হত্যা করেছেন সেনাশাসক জিয়াউর রহমান। জিয়া যদি সংবিধান সংশোধন না করে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি না দিতেন, এদেশে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে না দিতেন, তাহলে জামায়াত-শিবির আজ পুলিশের উপর এভাবে গুপ্ত আক্রমণ চালাতে পারত না। তিনি বলেন, খুন, নারী ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগকারীদের ছাড়া অন্য যুদ্ধাপরাধীদের বঙ্গবন্ধু ক্ষমা করেছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান এই চার ক্যাটাগরির অপরাধীদেরও ক্ষমা করে দেন।
