বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না চবি

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১০
৭৮টি আসন বরাদ্দ থাকলেও গত এক দশকে কোন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট খুলে দেখা গেছে একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য এতে নেই। সাইটটি নিয়মিত আপডেটও করা হয় না। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা চবির সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারছে না। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, বহির্বিশ্বির বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোতে বছরের যে কোনো সময়ে ভর্তি হওয়া যায়। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভর্তি হতে হয়। তাই অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হতে পারে না। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বহির্বিশ্বে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো কার্যকর উদ্যোগ নিলে চবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়তে আসবে বলে তিনি মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এদের মধ্যে ২৫০ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বছরের পর বছর ধরে চবি’র আসনসমূহ খালি পড়ে রয়েছে। এদিকে আসন সংকট থাকলেও শূন্য এই ৭৮টি আসনে কাউকেই ভর্তি করায় না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে চবি প্রশাসনের কোন মাথাব্যথাও নেই। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদ ও ২টি ইনস্টিটিউটে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৭৮টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে কলা অনুষদের ১১টি বিভাগে ১৯টি আসন, বিজ্ঞান অনুষদের ৭টি বিভাগে ১২টি, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ৪টি বিভাগে ৮টি, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ৭টি বিভাগে ১৪টি, আইন অনুষদে ২টি, বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটে ৫টি, সমুদ্র ও মত্স্যবিদ্যা ইনস্টিটিউটে ২টি ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের ৯টি বিভাগে ১৬টি আসন রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ ১৯৯০-৯১ থেকে ৯৮-৯৯ সেশন পর্যন্ত অনার্স কোর্সে মোট ১৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। আর মাস্টার্স কোর্সে ১৯৯৯-২০০০ সেশন থেকে ২০০২-০৩ সেশন পর্যন্ত মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। এই ১৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগে। তারা সকলেই ছিলেন নেপালের। জানা গেছে, নেপালি এ শিক্ষার্থীরা চবি থেকে পড়াশোনা শেষে তাদের নিজ দেশে একটি ফরেস্ট্রি ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছেন। তারপর নেপাল থেকেও চবিতে শিক্ষার্থী আসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ১০ বছরে আর কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি চবিতে। চবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলোতে দেশীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো যায় কি-না, সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাথে আমরা কথা বলব।’