সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের অবহেলিত একটি জনপদের নাম কাটবুনিয়া গ্রাম। এখানে যাতায়াতের জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতে গ্রামটির সাথে যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে ওই গ্রামের মানুষের নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। ওই গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা কমিটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। এখানে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নাজুক।
তালা উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার পূর্বে তালা-ডুমুরিয়া সীমান্তে কাটবুনিয়া গ্রামটির অবস্থান। প্রায় ৪শ’ পরিবারের ২ হাজার লোকের বসবাস গ্রামটিতে। ওই গ্রামে যাতায়াতের জন্য রয়েছে দুইটি রাস্তা। হাজরাকাটি হয়ে কাটবুনিয়া ও মহান্দী হয়ে কাটবুনিয়া উভয়দিকে দূরত্ব চার কিলোমিটার। এই চার কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ কাঁচা। এরমধ্যে এলজিইডি’র আওতায় মহান্দী হয়ে কাটবুনিয়া রাস্তার এক কিলোমিটার কাজ চলছে। তাও শম্ভুকগতিতে। তবে ঐ রাস্তাটি কাটবুনিয়া এলাকার মানুষের তেমন কাজে আসেনি। রাস্তাটি মহান্দী গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান সরেজমিনে ওই গ্রামটি পরিদর্শন করে রাস্তা ও বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিলেও তার প্রতিফলন ঘটেনি।
ওই গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুণ মণ্ডল আক্ষেপ করে বলেন, সবাই প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু কেউ কথা রাখে না। ভোটের আগে অনেকের দেখা মিললেও ভোটের পরে আর দেখা মেলে না। সুকুমার মণ্ডল জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনে ছেলে-মেয়েরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশুনা করছে। স্কুলকক্ষে জরুরী সংস্কার করা না হলে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিক্ষক বিধান জোয়ার্দ্দার জানান, মাত্র চার কিলোমিটার রাস্তার জন্যে আমাদের কষ্টের শেষ নেই। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় কিংবা হাঁটু সমান কাদা ঠেলে যাতায়াত করতে হয়। ভোটের আগে সবাই প্রতিশ্রতি দিলেও ভোটের পরে কেউ খোঁজ নেয় না।” এমন মন্তব্য ওই গ্রামের শত শত ভুক্তভোগী মানুষের।
খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় কাটবুনিয়া গ্রাম ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে খ্যাত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই গ্রামটিতে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪১ বছর পরও যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন হয়নি। যার কারণে জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। রাস্তা দুইটি নির্মিত হলে মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে।
তালা উপজেলা প্রকৌশলী নারায়ণ চন্দ্র সরকার জানান, রাস্তার কাজ চলছে। খুব দ্রুত ওই কাজ শেষ করা হবে।
