বাংলার নারী জাগরণের পথিকৃত্ বেগম রোকেয়ার পরিবারের বেহাত হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করে রোকেয়া এস্টেট নাম দিয়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা ও রোকেয়ার সমাধী বাস্তুভিটায় সমাহিত করার দাবি আজও পূরণ হয়নি। জেলা পরিষদ ৩০ শতক জমির উপর বাউন্ডারি ওয়াল আর আতুড়ঘরটির ৫ বর্গ হাতের মতো জায়গায় টাইলস দিয়ে মুড়িয়ে দায় এড়িয়ে গেছেন। কেবল রোকেয়ার জন্মস্থান বাড়িটির কয়েক শতক জমির চতুর্দিকে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে কোনো মতে ঘিরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে রোকেয়া পরিবারের সাড়ে ৩শ বিঘা জমি, পুকুরসহ মূল্যবান সব জিনিসপত্র। অনেকে এসব নিজের নামে দলিল পর্যন্ত করে নিয়েছেন। এনিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে রোকেয়ার বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করে পর্যটন কেন্দ্র এবং রোকেয়া চর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে আসলেও এখন পর্যন্ত তা পূরণ হয়নি। এদিকে বর্তমান সরকারের আমলে পাকিস্তান থেকে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনার পর এই অঞ্চলের মানুষ রোকেয়ার মরদেহটিও পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার দাবি জানিয়েছে।
২০১০ ও ২০১১ সালে রংপুরের জেলা প্রশাসক বিএন এনামুল হক বলেছিলেন, মরদেহ পায়রাবন্দে আনার ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন করা হয়েছে। আগামী বছর রোকেয়া দিবসের আগে তার মরদেহ পায়রাবন্দে আসবে বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন; কিন্তু এবারও সেই ঘোষণা ঘোষণাই থেকে গেছে।
বেগম রোকেয়ার ভাই মসিহুজ্জামান সাবেরের কন্যা পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রণজিনা সাবের জানান, রোকেয়ার পরিবারের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে ৩শ বিঘা জমি বেহাত হয়ে গেছে। জমিগুলো উদ্ধারে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত সে আবেদনের সাড়া মেলেনি।
তিনি রোকেয়ার মরদেহটি তার জন্মস্থানে সমাহিত করার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, যদি বীর শহীদদের সমাধি এক স্থান থেকে তার নিজ জন্মস্থানে নিয়ে এসে সমাহিত করা যায় তাহলে কেন রোকেয়ার মরদেহ তার জন্মস্থানে সমাহিত হবে না। তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, বেগম রোকেয়ার বেহাত হওয়া সম্পত্তিগুলো দেশের সম্পদ। ভূমিদস্যুরা সম্পদগুলো দখল করে আছে। সম্পদগুলো উদ্ধার করা গেলে সেখানে রোকেয়া প্রেমীদের জন্য পাঠাগার ও রোকেয়া চর্চা কেন্দ্রসহ জ্ঞান চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা যাবে। তিনি বেগম রোকেয়ার বেহাত হওয়া সম্পত্তিগুলো উদ্ধার করে তা হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
