বিনা চিকিত্সায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলী

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৯
সিদ্ধিরগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলী (৬৬) এখন টাকার অভাবে বিনা চিকিত্সায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। তার দিন কাটে হুইল চেয়ারে ও বিছানায় শুইয়ে। তিনি কিডনিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ বছর ধরে শয্যাশায়ী। মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলীর সঙ্গে তার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীর কদমতলীর কলেজপাড়ার ভাড়া বাসায় সমপ্রতি কথা হয় এ প্রতিনিধির। মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলী ছিলেন ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা। তার মুক্তি নং ০১০৪০৭০০৪৪। তিনি জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। আদমজী জুট মিলে কাজ করতেন মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলী। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চলে যান ভারতের মেলাঘর ও বাঘমারায়। সেখানে তিনি ২৮ দিন ট্রেনিং নিয়ে ফিরে আসেন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলায়। এখানে এসে তিনি শুরু করেন মুক্তিযুদ্ধ। তার গ্রুপ কমান্ডার ছিলেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রেহান উদ্দিন রেহান। তিনি বার্মাস্ট্যান্ড এলাকার তেল ডিপো বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আজ অসুস্থ। কিডনিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এবং কোমর থেকে নিচের অংশ অবস হয়ে থাকায় বিছায় শুয়ে বা হুইল চেয়ারে বসে দিন কাটছে মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলীর। বর্তমানে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে পারছেন না। চিকিত্সার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে আবেদন-নিবেদন করেও সহযোগিতা পাননি মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলী। মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলী বলেন, অসুস্থ হওয়ার পর কেউ খোঁজ-খবর নেয়াতো দূরের কথা, কেউ দেখতেও আসেন না। সুন্দর আলীর ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে ও মেয়ে বিয়ে করেছে। ছোট মেয়ে খোদেজা আক্তার শিখা ২০০৪ সালে এইচএসসি ও ছোট ছেলে রানা ভুঁইয়া ২০০৩ সালে এসএসসি পাস করার পর অর্থের অভাবে লেখাপড়া করতে পারেনি। বর্তমানে তারা বেকার অবস্থায় রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলীর শেষ ইচ্ছা- তার বেকার দু্ই ছেলে-মেয়ের চাকরির ব্যবস্থা ও থাকার জন্য একখণ্ড জমি। তিনি জানান, মাত্র দুই লাখ টাকা হলেই চিকিত্সা করাতে পারতেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হবে কি?