গোপালপুর উপজেলার ভাদুড়িচর গ্রামের দিনমজুর তসলিম মিয়ার ৫ সন্তানের মধ্যে ৪ জনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। অভাবী সংসারে এদের লালন-পালন ও ভরণ-পোষণ নিয়ে ষাটোর্ধ্ব তসলিম হিমশিম খাচ্ছেন। বড় ছেলে লুত্ফর (২৫) জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ। বিছানায় শুয়েই দিন কাটে। দ্বিতীয় পুত্র রমযান (২০) একমাত্র উপার্জন সদস্য। মুদি দোকানি। তৃতীয় সন্তান মমতাজ (১৭) চলাফেরা করতে পারে না। চতুর্থ সন্তান মামুন (১২) হামাগুড়ি দিলে চলে। পঞ্চম সন্তান (৭) তৌহিদের অবস্থা আরো খারাপ। বিকলাঙ্গ সন্তানদের জন্য অবিশ্রান্ত খাটাখাটি করায় তসলিমের স্ত্রী হাসনা বেগমের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়েছে। তিনজনের নয়শ’ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা ও মুদি দোকানের যত্সামান্য আয় দিয়ে সাতজনের খাওয়া-পরা চলে না। অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটে। তসলিম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন,“বাবারে বুড়া অইয়া গেছি বইলা কেউ কামলা নেয় না। এ বয়সে হগলেই পোলাপানের কামাই খায়, আল্লাহ্ আমার ভাগ্যে তা রাহে নাই। ওরা যুদি নিজে কামাই কইরা খাইতে পারতো তাইতেই শান্তি পাইতাম। ওরা হাঁটবার পারে না। কোলে তুইলা নেন নাগে। খাওন-গোছল করান লাগে। ল্যাংড়া পরিবারের সন্তান বইলা ভালো ছেলেটার কাছেও কেউ মাইয়া বিয়া দিবার চায় না” বলতে বলতে কেঁদে ফেলে তসলিম। প্রতিবেশী আখতার হোসেন জানান, এরা প্রায়ই না খেয়ে থাকে। বিত্তবানরা এগিয়ে এলে অসহায় পরিবারটি বাঁচতে পারতো।
