কোনো দলের কাছে দেশ ইজারা দেয়া হয়নি মন্তব্য করে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, অর্থ ও ক্ষমতার সীমাহীন মোহ আমাদের ধ্বংস করে দিয়েছে। দলীয়করণ এদেশের মূলে আঘাত করেছে। আর যোগ্যদের সরিয়ে দিচ্ছে চাটুকাররা। এ অবস্থা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে।
বর্তমানে যে রাজনীতি করা হচ্ছে তা দেশ ধ্বংস করার রাজনীতি মন্তব্য করে ড. কামাল হোসেন বলেন, বিশ্বজিেক চাপাতি দিয়ে মারার আদেশ কে দিয়েছে তা তদন্ত হওয়া দরকার। যারা দলীয়ভিত্তিতে অন্যদলের মানুষকে বিবেচনা করে তারা অমানুষ। আর এই অমানুষ হওয়ার জন্য তথাকথিত রাজনীতি দায়ী।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-এর কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় ঐক্যের ডাক-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম নেতা এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, শামসুদ্দোহা, বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মেজর (অব:) আব্দুল মান্নান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. কামাল বলেন, আমি পলিটিক্স করি; কিন্তু আমার কোনো পাজেরো গাড়ি নেই বলে আমাকে কথা শুনতে হয়। আরো শুনতে হয়- নির্বাচনে নির্বাচিত হতে পারি না বলে; কিন্তু আমি বলি, যারা টাকা দিয়ে নির্বাচনে জেতে আল্লাহ তাদের হেফাজত করুক। ড. কামাল বলেন, দেশে অনেক ভালো মানুষ রয়েছে। তাদের এগিয়ে আসতে হবে। বৈষম্য মুক্ত, শোষণ মুক্ত সমাজ নির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, রাজনীতি এখন একটা পেশা হয়ে গেছে। যার মাধ্যমে অনেক টাকা-পয়সা রোজগার করতে হবে।
বিশ্বজিত্-এর হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না উল্লেখ করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারি চিকিত্সকরা এখন বলছেন, বিশ্বজিত্-এর দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় নাই। তাহলে কি বিশ্বজিত্ হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছে? সাংবাদিক সাগর-রুনিকে কি নির্মমভাবে হত্যা করা হলো; কিন্তু কারা কি কারণে হত্যা করল তাও আমাদের জানতে দেয়া হলো না। আজ এসব ইস্যুতে আমাদের জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।
বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট বলেন, সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ অনেক অনেক কিছু পাবে; কিন্তু অন্যরা কিছুই পাবে না। তা হবে না। আমরা যে গণতন্ত্র চালু রেখেছি, তা পৃথিবীর কাছে লজ্জার।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা জাতি হিসেবে মহান হলেও আমাদের নেতৃত্ব মহান নয়। এই নেতৃত্ব বদলাতে হবে। আমরা বড় দুই দলের দুই নেতৃত্ব থেকে মুক্তি চাই। ওরা ওদের ছেলেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কত কিছু করে; কিন্তু বিশ্বজিত্-এর জন্য, তাজরীনে আগুনে পুড়ে যাওয়া শত শত মানুষের জন্য এক ফোঁটা চোখের পানিও ফেলে না।
