প্রমাণ পেলে আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হবে :দুদক

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৪
পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। দুদকের পরিচালক মনিরুজ্জামানকে সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ করে গঠিত এই কমিটিতে প্রধান তদন্তকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ-আল জাহিদকে। এছাড়া কমিটির অপর তিন সদস্য হচ্ছেন সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবদীন শিবলী, উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও মির্জা জাহিদুল আলম। নিয়ম অনুযায়ী এ কমিটিকে ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় দেয়ার বিধান রয়েছে। গতকাল দুদকের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পেলে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও মামলা হবে। গতকাল মঙ্গলবার প্রেস ব্রিফিংয়ে দুদক সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী আবুল হোসেনের ব্যাপারে বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শকের কাজ দেয়া নিয়ে যখন ‘ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্র’ হচ্ছিল, সে সময় যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন যথেষ্ট মনোযোগী ছিলেন না বলেই মনে করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার সেই ভূমিকা ‘স্বাভাবিক’ না হলেও ‘অবৈধ’ কিছু করার তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় সাবেক এই মন্ত্রীকে মামলায় আসামি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন । তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু দুর্নীতির অনুসন্ধানে আমাদের কাছে যতো তথ্য উপাত্ত রয়েছে তা পর্যালোচনা করে আমরা জেনেছি, এই মামলার আসামিরা যখন ষড়যন্ত্র করছিলেন, সে সময় সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগী ছিলেন না। এটা তার ইররেগুলারিটি, এ জন্য প্রশাসন থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু মামলার আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার মতো ইললিগ্যাল অ্যাক্টিভিটি এটা নয়। এসএনসি লাভলিনের তিন কর্মকর্তাকে মামলায় আসামি করা হলেও আবুল হাসানের নাম না থাকার ব্যাখ্যা করে দুদক সচিব বলেন, তিনি যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা অফিসিয়াল হতেন তাহলে অবশ্যই তার নাম বিবেচনা করা হতো। যেহেতু তিনি কোনো অফিসিয়াল ব্যক্তি নন তাই আইন অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত তাকে আসামি করার সুযোগ আমাদের হাতে নেই। তবে তদন্ত পর্যায়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলে আবুল হোসেন ও আবুল হাসানের বিরুদ্ধেও মামলা হবে বলে উল্লেখ করেন ফয়জুর রহমান চৌধুরী। দুদকের মামলায় আসামিরা হলেন- সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়নে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের, এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় এজেন্ট মো. মোস্তফা এবং এর ৩ কর্মকর্তা সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহা ও সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল।