জ্বালানি তেল ও পরিবহন ভাড়া একই দিনে বাড়ানো হবে!

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৪
জ্বালানি তেলের দাম আরো একদফা বাড়ানোর আলোচনা চলছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সাথে সাথে একই দিন পরিবহন ভাড়াও বাড়ানো হবে। গতকাল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিদ্যুত্ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পরিবহন মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জ্বালানি তেলের সাথে একই দিনে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ইত্তেফাককে বলেন, আমরা জ্বালানি তেলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ফলে ভর্তুকি বেড়েছে। তবে তেলের দাম বাড়ানোর এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্ববাজারে এখন যে তেলের দামে তাতে করে দেশে বাড়ানো উচিত নয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন স্থির আছে। তিনি বলেন, বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য যে তেল প্রয়োজন হচ্ছে তা যদি আলাদাভাবে আমদানি করা হয় তবে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা তেলে দাম বাড়ানো প্রয়োজন হয় না। ঋণদাতা সংস্থাগুলোর চাপের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কয়েকজন মন্ত্রী সরকারের শেষ সময় এসে আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পক্ষে নন। তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে আপাতত জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রী অন্য কয়েকজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেন। তারই প্রেক্ষিতে গতকাল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। বিপিসি সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরে ১০ হাজার ৫৫১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তেল বিক্রি করে লোকসান হবে। গতবছর এর পরিমাণ ছিল নয় হাজার একশ’ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিপিসির লোকসান ছিল দুই হাজার ৫৭১ কোটি ২২ লাখ টাকা। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে লোকসানের পরিমাণ প্রায় চারগুণ বেড়েছে। তেল ভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র বেশি স্থাপন করাই জ্বালানি তেল বেশি আমদানি করতে হচ্ছে। বেশি তেল ব্যবহারের কারণে লোকসানও বেশি হচ্ছে। বিপিসি বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রির কারণে যেমন লোকসান বেশি দেয় তেমন করও পর্যায়ক্রমে বেশি দেয়। চলতি অর্থবছর বিপিসি কর দেবে চার হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গতবছর ছিল তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে কর দিয়েছে দুই হাজার ৩২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।