গত ২৮ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ব-বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গত সোমবার রাতে ছাত্রলীগ কর্মী চার শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদেরকে অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে। তবে সাংস্কৃতিক জোট এই বিচারকে প্রহসনমূলক আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে যে, প্রত্যক্ষ হামলাকারী তিনজনকেই বিচার থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। জোটের সভাপতি কলি মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে অব্যাহতি দিয়ে প্রহসনের বিচার করেছে। আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
গত সোমবার রাতে সিন্ডিকেটের বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এস এম মাহতাব মেহেদি সম্রাটকে (৩৬তম ব্যাচ অর্থনীতি বিভাগ) এক মাসের জন্য বহিষ্কার ও তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মো. জাহাঙ্গীর আলম অর্নব (বাংলা বিভাগের ৩৭তম ব্যাচ), সাইফুর রহমান শাকিল (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ ৩৬তম ব্যাচ), এম জি রাব্বী রানাকে (দর্শন বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী) দুই মাসের জন্য বহিষ্কার ও ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই সময়ে তাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে গত রবিবার রাতে মওলানা ভাসানী হলে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রীতিভোজের খাবার নিতে গেলে হলের আবাসিক শিক্ষকরা তাতে বাধা দেন। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করায় হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক খবির উদ্দিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। তিন মাসের জন্য বহিষ্কৃত ও ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত এই পাঁচজন হলেন ছাত্রলীগ কর্মী ফেরদৌস আহমেদ (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ ৩৭তম ব্যাচ), একই বিভাগ ও ব্যাচের ফয়সাল আহমেদ ও রাকিবুর রহমান, ফজলে রাব্বি (ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ ৩৮তম ব্যাচ) এবং একই বিভাগ ও ব্যাচের সিফাত সালেহীন। উল্লিখিত সবার বহিষ্কারাদেশ গত সোমবার রাত থেকে কার্যকর হবে।
সাংস্কৃতিক জোটের নেতা-কর্মীরা জানান, গত এপ্রিল মাসে তত্কালীন উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষকদের একটি অংশ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছিলেন। সাংস্কৃতিক জোটের নেতা-কর্মীরা সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্, জাহাঙ্গীরনগর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদসহ ১১ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি চলাকালে ২৮ এপ্রিল তত্কালীন ভিসি শরীফ এনামুল কবিরপন্থী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ কর্মীরা সাংস্কৃতিক জোটের ছয়জনকে রড, লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। শরীফ এনামুল কবিরের পদত্যাগের পর ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হয়। পরে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের উপর ভিত্তি করে সিন্ডিকেটে প্রো-ভিসি অধ্যাপক মো. ফরহাদ হোসেনকে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট পুনর্মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। পুনর্মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে গত সোমবার রাতে সিন্ডিকেট সভায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ৪ ছাত্রলীগ কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, অর্থদণ্ড ও ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
তবে মিঠুন কুমার কুণ্ডু (ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ৩৮তম ব্যাচ), শেখ শরিফুল ইসলাম (এম ফিল গবেষক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ), ফেরদৌস আহমেদের (সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৩৭তম ব্যাচ) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া সিন্ডিকেটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি কলি মাহমুদ ও সহ-সভাপতি মইন মুনতাসিরকে বিভ্রান্তিমূলক কাজ না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
