বাঁয়ের ছবিটা লক্ষ করুন। কাগজের ছাপায় ছবিটিকে খুব অসাধারণ বলে মনে হবার কোনো কারণই হয়তো নেই। এমনকি যদি জানিয়ে দেওয়া হয় যে ২.১ মিলিয়ন ডট বা বিন্দুর সমন্বয়ে প্রায় ১৩৮ ঘণ্টা সময় নিয়ে ছবিটি আঁকা হয়েছে তাহলেও হয়তো অতটা চমকে উঠবেন না সবাই। তবে কখনও কখনও একটা ছবির গল্প যে ছবির সীমানাকেও বহুগুণে ছাড়িয়ে যেতে পারে তার প্রমাণ জনপ্রিয় ডট পেইন্টার মিগুয়েল অ্যান্ডারার আঁকা এই ছবিটি। আর ছবির পেছনের এই অবিশ্বাস্য গল্প যাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে তিনি এই পোর্ট্রেট ছবিতে শোভা পাওয়া বেঞ্জামিন কাইল নামের এক ব্যক্তি। ২০০৪ সালে আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এক শহরে বেঞ্জামিনকে ছিন্ন কাপড় আর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করার পর থেকে বেঞ্জামিন যেন গোটা আমেরিকার কাছেই এক জীবন্ত রহস্য। আর একই সাথে অদ্ভুত কিংবা দুঃখের হলোও সত্য যে এই বেঞ্জামিনই হলেন আমেরিকায় সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত একমাত্র নিখোঁজ ব্যক্তি যার খোঁজ সবারই জানা আছে! এই লাইনটা পড়ে একে অনেকেই হয়তো হেঁয়ালি ভাবছেন। তবে বেঞ্জামিনের জীবনের অনেকটাই এখন বাঁধা পড়ে আছে এই হেঁয়ালির সমাধানেই। মূলত দুর্লভ এক রোগ হিসেবে স্বীকৃত ডিসোসিয়েটিভ অ্যামনেশিয়ার কারণে জর্জিয়ায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার আগের কোনো স্মৃতিই মনে নেই বেঞ্জামিনের। এমনকি তার কাছে কোনো ধরনের সামগ্রী বা আইডি কার্ড না থাকায় তার পরিচয়ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন চিকিত্সা ও পর্যবেক্ষণের পর তার এই স্মৃতি হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে চিকিত্সকরাই তার নাম রাখেন বেঞ্জামিন কাইল। মূলত যে ফাস্টফুডের দোকানের সামনে তাকে পাওয়া গিয়েছিল সেই দোকানের নামের সাথে মিল রেখেই তার এমন নামকরণ করা হয়। তবে নামের এই ঝামেলা মেটানো গেলেও গত প্রায় ৮ বছর ধরে পাওয়া যায়নি বেঞ্জামিনের প্রকৃত পরিচয়। এ নিয়ে মিডিয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু চেষ্টা হলেও তার পরিচয় নিশ্চিত করে এগিয়ে আসেননি কেউ। এদিকে আমেরিকার নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে পড়ে পরিচয়হীন বেঞ্জামিনের কপালে সামাজিক নিরাপত্তা, চাকরি কিংবা অনাথ হিসেবে আশ্রয় লাভের মতো কোনো সুযোগই জোটেনি। এ বাস্তবতায় নিজের শিল্পসৃষ্টির জোর দিয়ে সবার মাধ্যমে টি-শার্ট কিংবা পোস্টারে বেঞ্জামিনের কথা ছড়িয়ে দিতেই শিল্পী মিগুয়েল অ্যান্ডেরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আশা করেন এই ছবিটিকে নানাভাবে গোটা আমেরিকায় ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে হয়তো অচিরেই জানা যাবে বেঞ্জামিন নামে পরিচিত এই দুর্ভাগা লোকটির সত্যিকার পরিচয়।
