পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) বা ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধির যে তথ্য প্রকাশিত হয় তা ‘ওর্থলেস’ বা অন্তসারশূন্য বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে কিন্তু ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে জাতীয় আয়ের তথ্যে তা ফুটে উঠছে না। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়েছে কিন্তু তা সঠিকভাবে ফুটে উঠেনি। বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে বিবিএস শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ন্যাশনাল স্ট্রাটেজি ফর দ্যা ডেভেলপমেন্ট অব স্ট্যটিস্টিক্স (এনএসডিএস) শীর্ষক পরিকল্পনা দলিল প্রণয়নের অংশ হিসেবে আয়োজিত চূড়ান্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৮১৮ ডলার যা ২০১১-১২ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪৮ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। পিপিপি’র সঠিক তথ্য প্রকাশে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সাথে বিবিএসকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর কিছু কিছু উন্নয়ন তথ্যে রাজনীতি থাকে। এটা কোনোভাবেই উচিত নয়। এ প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে সঠিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন, পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব মো. নজিবুর রহমান, বিবিএস মহা-পরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল, প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, উন্নয়নের জন্য মৌলিক পরিকল্পনা দরকার। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিসংখ্যান। আমাদের এমনভাবে পরিসংখ্যান তৈরী করতে হবে যাতে যথাযথ তথ্য উঠে আসে। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরো যত্নশীল হওয়া দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, পরিসংখ্যান ব্যবস্থা ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যুরো বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফের সাহায্য নিতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গেল্ডস্টেইন বলেন, তথ্য সহজভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে সহজেই বুঝা যায়। সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পা অনুযায়ী বিবিএসকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজনে বিবিএস বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সহযোগিতা গ্রহণ করা যেতে পারে।
কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বিবিএস (ফেজ-২:এনএসডিএস প্রিপারেশন) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পরিসংখ্যানের জন্য একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরীর জন্য ন্যাশনাল স্ট্রাটেজি ফর দ্যা ডেভেলপমেন্ট অব স্ট্যটিস্টিক্স (এনএসডিএস) নামে একটি পরিকল্পনা দলিল তৈরী করা হচ্ছে যা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জাতীয় পরিসংখ্যান পদ্ধতি তথা পরিসংখ্যান ব্যুরোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন পরিসংখ্যান তৈরী করা যার উপর ভিত্তি করে দেশের সামগ্রীক নীতি ও পরিকল্পনা (যেমন-পিআরএস, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ইত্যাদি) গ্রহণ করা যায়। অর্থাত্ এর মাধ্যমে মাধ্যমে জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থাপনাকে পরিসংখ্যানগত তথ্য ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন তার উপস্থাপনায় জানান, এনএসডিএস এর মাধ্যমে যে সকল সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সকল শুমারী (জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক ও কৃষি) পরিচালনা করা এবং পর্যায়ক্রমে সকল শুমারীকে ই-সেন্সাসে উন্নীত করা। অনলাইনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা, গ্রীন জিডিপি নিরূপণ করা, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে শ্রমশক্তি জরিপ পরিচালনা করা, সময়মত শিশুশ্রম জরিপ চালিয়ে যাওয়া, শিল্পগত পরিসংখ্যানের ডাটাবেস সমৃদ্ধশালী করা, কৃষি পরিসংখ্যান নির্ভুল করার লক্ষ্যে ক্লাস্টারগুলোকে হালনাগাদ, ক্লাস্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও ডিজিটালাইজড করা, কাগজবিহীন অফিস প্রক্রিয়া চালু করা, সকল তথ্য প্রাপ্তিতে একটি পরিসংখ্যানের ডাটাবেজ তৈরী করা, মা ও শিশু পুষ্টি জরিপ নিয়মিতকরণ প্রভৃতি।
