৪০০ কেভির প্রথম জিআইএস গ্রিড বিদ্যুত্ সাবস্টেশন মদুনাঘাটে

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৩৮

চট্টগ্রামের মদুনাঘাটে ৪০০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের প্রথম জিআইএস গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণ করছে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের বিদ্যুত্ মদুনাঘাট হয়ে ঢাকা অঞ্চলে সঞ্চালনের লক্ষ্যে এ গ্রীড সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে।

গতকাল রবিবার পিজিসিবির প্রধান কার্যালয়ে জাপানের হিটাচি করপোরেশন ও চীনের ইটার্ন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে সই করে পিজিসিবি। অনুষ্ঠানে পিজিসিবির পক্ষে কোম্পানী সচিব মো. আশরাফ হোসেন এবং ইটার্ন-হিটাচি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর ডি কে এম ফজলুল হক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

পিজিসিবি জানায়, দেশে বর্তমানে ৪০০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি গ্রীড সাবস্টেশন চালু থাকলেও সেগুলো এয়ার ইনস্যুলেটেড সুইচগিয়ার (এআইএস) প্রযুক্তির। এই সাবস্টেশন নির্মাণ ও পরিচালনায় অপেক্ষাকৃত বেশি জমির প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে আধুনিক গ্যাস ইনস্যুলেটেড সুইচগিয়ার (জিআইএস) প্রযুক্তির সাবস্টেশন নির্মাণে ভূমি কম লাগে। দক্ষতাও (এফিসিয়েন্সি) তুলনামূলক বেশি। এর আগে ২৩০ কেভি অথবা ১৩২ কেভি ক্ষমতার জিআইএস সাবস্টেশন দেশে নির্মিত হয়। মদুনাঘাটে জিআইএস প্রযুক্তির প্রথম ৪০০ কেভি ক্ষমতার গ্রীড সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৩৪ মাসের (দুই বছর ১০ মাস) মধ্যে টার্নকি পদ্ধতিতে মদুনাঘাট ৪০০/২৩০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রীড সাবস্টেশন নির্মাণ করে পিজিসিবির কাছে হস্তান্তর করবে হিটাচি ও ইটার্ন। এ কাজে ব্যয় হবে প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং পিজিসিবি এ কাজে অর্থায়ন করছে।

জানা যায়, গ্রীড সাবস্টেশনটিতে জাপানের হিটাচি করপোরেশনের ৫০০/৭৫০ এমভিএ ক্ষমতার তিনটি ট্রান্সফরমার বসানো হবে। এছাড়াও ৪০০ কেভি ক্ষমতার ছয়টি বে, দুইটি বাস কাপলার, দুইটি সেকশন এবং দুইটি বাস বিটি স্থাপন করা হচ্ছে। ২৩০ কেভি অংশেও একই সংখ্যক যন্ত্রাংশ থাকবে। পিজিসিবির গৃহীত ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন পাওয়ার গ্রীড স্ট্রেংথদেনিং প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম-আলবেরুনী, নির্বাহী পরিচালক মো. ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরী, মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন ও খোন্দকার মো. আবদুল হাই, প্রকল্প পরিচালক বজলুল মুনীর এবং যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।