সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে আবাদি জমি আর ঘরবাড়ি বিলীনের পাশাপাশি গত ৩ বছরে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে ৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে গত ৪ মাসের ব্যবধানে বিলীন হয়েছে ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২টি উচ্চ বিদ্যালয়। যে কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। আর ভেঙ্গে যাওয়া এই স্কুলগুলোর ঠাঁই হয়েছে নতুন কোন ভবনে নয়, বাড়ির উঠান, ওয়াপদা বাঁধ অথবা বালুচরে। তাই রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এখানে ক্লাস করতে হয়। এতে দুর্ভোগের সীমা থাকে না শিক্ষকদেরও। তবে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার নাসির আহমেদ জানান, নদীতে বিলীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া ১৬টির নতুন ভবন আগামী জানুয়ারি থেকে নির্মাণ শুরু হবে।
সরেজমিনে ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় গিয়ে জানা যায়, পলি ফেলে অনাবাদি জমি ফসলী করে একদিকে কৃষক উপকৃত হলেও ক্ষতির পাল্লাই ভারি চৌহালীবাসীর কাছে। এ নদীর তাণ্ডবে গত ২০ বছরে বসতি ও প্রায় ২০ হাজার একর আবাদি জমি হারিয়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ১২টি গ্রামের ঘরবাড়ি। এর মধ্যে অনেকেই একটু আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে নদী পাড়ে। এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীতে বিলীন চৌহালীর হাটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ক্লাস চলছে একই গ্রামের ছামাদ মাস্টারের বাড়ির উঠোনে। দত্তকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে পাথরাইল ওয়াপদা বাঁধে, দত্তকান্দি কে এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে পাথরাইল গ্রামের আয়নাল কবিরাজের বাড়ির উঠানে। খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করাতে সমস্যার পাশাপাশি এক রুমে গাদাগাদি করে লেখাপড়া চালানো অনেকটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান এই দুই স্কুলের শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ, ডলি সুলতানা এবং মোছা. ফেরদৌসী সরকার। তারা জানান, দ্রুত ভবন সমস্যার নিরসন করা না হলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশংকা। চৌহালীতে যমুনার ভয়াবহ ভাঙ্গনের কথা স্বীকার করে চৌহালী উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার নাসির আহমেদ জানান, আমরা নদীতে বিলীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনঃনির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছিলাম। এর মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৬টির, যা আগামী জানুয়ারি মাস থেকে নির্মাণ করা হলে দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।
