শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে শিক্ষা অধিদপ্তরের ৩৫টি উদ্যোগের বাস্তবায়ন

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১০
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তরের বর্তমান প্রশাসন। এই অধিদপ্তরের অধীনে ৩৪ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষক রয়েছে সাড়ে চারলাখ। শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে শিক্ষা অধিদপ্তর গত চার বছরে ৩৫টি নতুন উদ্যোগের বাস্তবায়ন করেছে। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশীদ বলেন, এই অধিদপ্তর অনেক বেশি শিক্ষক নিয়ে কাজ করছে। সব শিক্ষককে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রতিষ্ঠানটি গত ৬০ বছরেও প্রস্তুত ছিল না। এ কারণে অতীতে শিক্ষকরা হয়রানির শিকার হতো। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও তাদের হয়রানি দূর করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর কাজের গতি বাড়াতে ৩৫ ধরনের নতুন উদ্যোগের বাস্তবায়ন হয়েছে। উদ্যোগের অংশ হিসাবে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে ডিজি’স কর্ণার নামে একটি ওয়েব পেজ চালু করা হয়েছে। এই পেজ খুলে তথ্যপ্রার্থী ‘[email protected]’ এই ঠিকানায় মেইল করলে ৭ দিনের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য, সমাধান, পরামর্শ, অগ্রগতি ও প্রাসঙ্গিক যে কোন প্রশ্নোত্তর মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে পাচ্ছেন। তথ্য প্রার্থীদের দৃষ্টিতে অর্থসাশ্রয়ী, সময়সাশ্রয়ী এবং শ্রমসাশ্রয়ী পদক্ষেপ বলে জানা যায়। দুই জন কর্মকর্তা এবং দুই জন কর্মচারী সমন্বয়ে এককেন্দ্রিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে অধিদপ্তরের লবিতে একটি তাত্ক্ষণিক সেবাকেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এই কেন্দ্র সেবাপ্রার্থীগণকে প্রাথমিকভাবে তাত্ক্ষণিক সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, শিক্ষা ভবনের ইতিহাসে এই প্রথম শিক্ষক কর্মচারী বা সেবাপ্রার্থীদেরকে ভবনে আসার সাথে সাথে দুই জন কর্মকর্তা তাদের গ্রহণ করেন এবং প্রাথমিক দিক নির্দেশনা দেন। তাই হয়রানি ও দালালের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি থেকে সংশ্লিষ্টরা সুরক্ষা পাচ্ছেন। ফলে কাজকর্মে গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, সার্বিক নিরাপত্তা, হয়রানি ও দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন ও সাক্ষাতের মাধ্যমে শিক্ষা ভবন চত্বরের সর্বত্র সক্রিয় নজরদারি করা হচ্ছে। পাঁচজন পরিচালকের নেতৃত্বে পাঁচটি ভিজিলেন্স টিম সপ্তাহের পাঁচদিন পর্যায়ক্রমে ভবনে আগত দর্শনার্থীদের সরেজমিনে সেবা দিচ্ছেন। ফলে বাইরে থেকে যারা আসেন তাদের ভোগান্তির সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত গুরুতর কোন ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের গতি ও স্বচ্ছতা আনতে ভবনের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে লবি, অভ্যর্থনা কক্ষ, প্রতিটি তলার করিডোর ও বিভিন্ন কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা মনিটরিং করতে মহাপরিচালক ও পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন)-এর অফিস কক্ষে ২টি করে মনিটরে মোট ৩২টি ক্যামেরার সার্বক্ষণিক চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। মহাপরিচালকের কক্ষে গত ১১ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শিক্ষা অধিদপ্তরের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বিষয়ে বলেন, অধিদপ্তরের কাজের গতি বাড়াতে অনলাইনের মাধ্যমে মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। দক্ষতা বাড়াতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মকালীন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেল আধুনিকীকরণ, পত্রগ্রহণ ও বিতরণে নিশ্চয়তা বিধানসহ এমপিও বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষানীতি ও কোচিং বাণিজ্য নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা এই অধিদপ্তরটি রাখছে। শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে ।