চট্টগ্রাম বাজার ভেদে পণ্যের দামে বিরাট পার্থক্য

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৬
দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বাজার মনিটরিং হচ্ছে না। বাজার মনিটরিংয়ের জন্য একাধিক কমিটি থাকলেও তাদের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। রমজান মাস আসলে এসব কমিটি দু’একটি মিটিং করে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। কমিটিগুলো কাজ না করায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভোগ্যপণ্যের দামে অস্থিরতা চলছে। দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙানোর নিয়ম থাকলেও মানা হচ্ছে না। একই পণ্য বাজার ভেদে ব্যাপক ব্যবধানে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে একাধিক কমিটি রয়েছে। সারা বছর এসব কমিটির কোন তত্পরতা দেখা যায় না। রমজান মাস আসার কিছুদিন আগে কয়েকটি বৈঠক করে কমিটি তাদের দায়িত্ব শেষ করে। মুক্ত বাজার অর্থনীতির অজুহাত দেখিয়ে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা পণ্য বেচা-কেনায় নানা কারচুপি করছে। পণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজারে মূল্যের ব্যাপক ব্যবধান থাকে। পণ্যের আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা বাজারে পৌঁছার আগ পর্যন্ত সিন্ডিকেট করে মধ্যস্বত্বভোগীরা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে বাজার মনিটরিং কমিটিগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় পণ্যের দাম বেসামাল। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামে বাজার মনিটরিং উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ইত্তেফাককে বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা দু’টি মিটিং করেছি। বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট বসানো হচ্ছে। বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার জন্য কমিটিগুলোকে বলেছি। আগামী জানুয়ারি থেকে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে।’ সূত্র জানায়, বাজার মনিটরিং করার জন্য চট্টগ্রামে বাজারভিত্তিক ব্যবসায়ী সমিতি নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা বাজার মনিটরিং কমিটি, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম চেম্বার মনিটরিং কমিটি রয়েছে। এসব কমিটি পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভোগ্যপণ্যের মূল্য মনিটরিং করার জন্য গঠিত হয়েছে। কিন্তু এতোসব কমিটি থাকার পরেও বাজারে এর কোন প্রভাব পড়ছে না এবং ক্রেতারাও কোন সুফল পাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাজার মনিটরিং করার জন্য চট্টগ্রামে সরকারি কমিটিগুলোর কোন তত্পরতা নেই। দীর্ঘদিন ধরে কমিটির কোন বৈঠক হচ্ছে না। ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ বাজার মনিটরিং প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাজার মনিটরিং কাজটা দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না। চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে সবাই এখন নির্বাচনমুখী। তাই মনিটরিং কাজটি ব্যাহত হচ্ছে।’ সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং ও কৃষি ভোগ্যপণ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান করে থাকে। তারা জেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষিপণ্য বিক্রির পাইকারি ও খুচরা বাজার থেকে দৈনিক মূল্য সংগ্রহ করেন। কিন্তু তাদের কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে না। চট্টগ্রামে উপজেলাগুলোতে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি পাইকারি বাজার রয়েছে। যেখান থেকে পাইকাররা পণ্য এনে জেলার খুচরা বাজারগুলোতে বিক্রি করে। এ প্রসঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর চট্টগ্রামের জেলা মার্কেটিং অফিসার ইমাম হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘এতো বড় জেলার মাত্র ২ জন পরিদর্শক রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে প্রত্যেক বাজার থেকে মূল্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। পাইকারি বাজারের মধ্যে মিরসরাইয়ের মিঠাছড়া বাজার ও রাঙ্গুনিয়ার গুচারা বাজার থেকে এবং নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জ থেকে পণ্যের মূল্য সংগ্রহ করা হয়। চট্টগ্রাম জেলায় সাড়ে চার হাজার কৃষিপণ্য বিক্রেতা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়েছে।’ চট্টগ্রামে পাইকারি ও খুচরা দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। নগরীর বড় বড় কাঁচা বাজার, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জসহ কোন দোকানে মূল্য তালিকা টাঙানো হয় না। বিক্রেতাদের মর্জির উপর নির্ভর করছে পণ্যের দাম। এছাড়া কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী অভিযোগ করে জানান, চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিক্রিত পণ্যের ক্যাশ মেমো দিতে চায় না। তারা ক্রেতাদের দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আসেন বা দোকান কোথায় ইত্যাদি কথা বলে ক্রেতাদের তাদের ক্যাশ মেমো দিতে চায় না।