বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের ভারত সমর্থন দেবে না

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৭
ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা কোনদিন ভারতের সমর্থন পাবে না। গতকাল বুধবার বিকালে ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপিত বিজয় মঞ্চে আলোচনা সভায় ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা দিতে গিয়ে ভারতের ২ হাজার সৈনিক জীবন দিয়েছে। বিশ্বের কোথাও প্রতিবেশী দেশের স্বাধীনতার জন্য এতো অল্প সময়ে এতো বেশি প্রাণ দেয়নি। তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল ভারত কোনোদিনও তাদের সমর্থন দেবে না। এটা শুধু আমার কথা নয়। এটা ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, যা আমি আপনাদের জানিয়ে দিলাম। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকারকে সফল দাবি করে সামনের দিনগুলোতে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। স্বাধীন ভূমির জন্য ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে বাঙালির পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত, আশ্রয়ও দিয়েছে লাখ লাখ মানুষকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিদেশি বন্ধু হিসেবে বড় অবদান রাখায় প্রতিবেশী এ দেশটির তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর ঢাকা সফরের সময় সেই সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন তার পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধী। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও সরকারের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেয়াকে ‘বিশাল ব্যাপার’ আখ্যায়িত করে সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী অনেক দূর যাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন একটি উন্নত দেশ হতে পারে সেজন্য ভারতের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাসব্যাপী বিজয় দিবস উদযাপনে গঠিত জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজেন্ডার এ নিকোলাইব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজেন্ডার এ নিকোলাইব বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে জন্মলগ্ন থেকে রাশিয়া পাশে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে। সন্ত্রাস দমনে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার হবেই। কেউ তাদের রক্ষা করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর শান্তির মডেল জাতিসংঘে গৃহীত হওয়ায় মোহাম্মদ নাসিম বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান এবং সকলকে অভিনন্দন জানানোর আহ্বান জানান। মোহাম্মদ নাসিমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ সময় সকলে দাঁড়িয়ে তুমুল করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, যারা হরতাল ও আন্দোলনের নামে নাশকতা এবং সংঘর্ষ সৃষ্টি করবে তাদের দমনের ও প্রতিহত করার নৈতিক দায়িত্ব আমাদের। তিনি বলেন, এখন থেকে যারা গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, মানুষ হত্যাসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাবে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাদের দমন করা হবে। আর এর মাধ্যমে প্রমাণ করবো বাংলাদেশ শান্তির মডেল।